২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর পার্সোনাল কম্পিউটারের (পিসি) চাহিদা ব্যাপক বাড়বে। বছর শেষে মোট কম্পিউটার বাজারের ৩১ শতাংশই থাকবে এআই পিসির দখলে। গবেষণা সংস্থা গার্টনারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
গার্টনারের তথ্যানুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই বিশ্বব্যাপী এআই পিসির বিক্রি প্রায় ৭ কোটি ৭৮ লাখ ইউনিটে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের পিসিগুলোয় বিশেষ হার্ডওয়্যার (যেমন নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট বা এনপিইউ) থাকে, যা ক্লাউডের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি ডিভাইসেই এআই-ভিত্তিক কাজগুলো করতে পারে।
গার্টনারের জ্যেষ্ঠ পরিচালক রঞ্জিত আটওয়ালের মতে, এআই পিসি কম্পিউটারের বাজারকে নতুন করে সাজাচ্ছে। তবে দুটি কারণে ২০২৫ সালে এর বিক্রি কিছুটা কম হতে পারে। প্রথমত, বিভিন্ন দেশে এআই পিসির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত, বাজারের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে গ্রাহকরা এখনই নতুন পিসি কেনা থেকে বিরত থাকতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘সাময়িক স্থবিরতা সত্ত্বেও ব্যবহারকারীরা শেষ পর্যন্ত এআই পিসিতেই বিনিয়োগ করবেন। কারণ তারা বুঝতে পারছেন ভবিষ্যতে সব ধরনের ডিভাইসেই এআই ব্যবহৃত হবে। তাই সেই প্রস্তুতির জন্য এখন থেকেই তারা এআই পিসি কিনবে।’
গার্ডনারের বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, আগামী বছর ১৪ কোটি ৩০ লাখ এআই পিসি বাজারে আসবে এবং মোট পিসি বাজারে ৫৫ শতাংশই থাকবে এআই পিসি। ২০২৯ সাল নাগাদ এসব উন্নত প্রযুক্তির পিসি স্বাভাবিক পণ্যে পরিণত হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই পিসি কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পছন্দের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কারণ পিসির প্রসেসর প্লাটফর্ম দুই ধরনের হয়, আর্ম (এআরএম) এবং x৮৬।
গবেষণা সংস্থা গার্ডনারের মতে, আর্মভিত্তিক ল্যাপটপগুলো সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বেশি জনপ্রিয় হবে। কারণ এগুলোর সঙ্গে অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের সামঞ্জস্যতা বাড়ছে। তবে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরি x৮৬ প্রসেসরকেই বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করে।
গার্টনারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাজারেএ আই পিসি সহজলভ্য হওয়ায় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। এতদিন বেশির ভাগ এআই ফিচার ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ক্লাউড সার্ভারের ওপর নির্ভর করতে হতো, যেমন ছবি এডিট করা, লেখা তৈরি করা বা বড় ডাটা বিশ্লেষণ করা। এখন কোম্পানিগুলো এমনভাবে সফটওয়্যার তৈরি করছে, যেন এসব কাজ সরাসরি কম্পিউটারের প্রসেসর বা গ্রাফিকস কার্ড ব্যবহার করে করা যায়। ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ সফটওয়্যার বিক্রেতা এআই ফিচারগুলো সরাসরি কম্পিউটারে চালানোর জন্য বিনিয়োগ করবে। এ সংখ্যা ২০২৪ সালে ছিল কেবল ২ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম্পিউটার নির্মাতাদের শুধু ভালো হার্ডওয়্যার তৈরি করলেই হবে না, নতুন গ্রাহক পেতে তাদের এখন সফটওয়্যারভিত্তিক ও ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক এআই পিসি তৈরি করতে হবে। এগুলো নির্দিষ্ট কাজ ও পেশার মানুষের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করতে হবে।
গবেষণা সংস্থা গার্ডনারের সিনিয়র ডিরেক্টর রঞ্জিত আটওয়ালের মতে, এআই পিসির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে কাস্টমাইজেশন বা ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী সাজানোর সক্ষমতার ওপর। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপস ও ফিচারগুলো সাজিয়ে নিতে পারবেন।






















