প্রতারণা, জালজালিয়াতি ও হুমকির অভিযোগে ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)-সহ ছয়জনে বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সানাউল্লাহ বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পরে আদেশ দিবেন বলে জানিয়েছেন।
এর আগে, ফার্স্ট টেলি সেলস কোম্পানির স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বাদী হয়ে আদালতে মামলাগুলো করেন।
আসামিরা হলেন- সৈয়দা আমবারীন রেজা, কো ফাউন্ডার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেড; জুবায়ের সিদ্দিকী কো ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর; মো. তাবারেজ খান (ভারতীয় নাগরিক) ডিরেক্টর ডেলিভারি (হিরো স্টোর); দিলারা ফারুক (হেড অব ক্যাটাগরি); মোহাম্মদ সাজেদুল হক (সিনিয়র ম্যানেজার ও ডিরেক্টর) ডেলিভারি হিরো স্টোর; মোহাম্মদ তৌফিক এক্সিকিউটিভ ক্যাটাগরি ম্যানেজমেন্ট ডিরেক্টর ডেলিভারি হিরো স্টোর বাংলাদেশ লিমিটেড, পান্ডামার্ট।
প্রাপ্ত অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ফুডপান্ডা ও পান্ডামার্টের অভিযুক্ত কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে পিএনপি-কে বিদেশি পণ্য সরবরাহের জন্য প্রলুব্ধ করেন। পিএনপি ওই পণ্য সরবরাহ করলেও, অভিযোগ মতে, ফুডপান্ডা ৫কোটি ৮০ লাখ টাকা বকেয়া রাখে।
পৃথক চারটি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীর আইনজীবী জানান, ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে ব্যবসা করেন শিহাব মাহমুদ। পৃথক পৃথক চুক্তি অনুযায়ী এই ব্যবসা করার কথা। কিন্তু চুক্তি ভঙ্গ করে বিভিন্ন জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে পান্ডামার্টের তথা ফুডপান্ডার কর্মকর্তারা বাদীর ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতি করেছেন। এ কারণে এই মামলা করা হয়েছে।
বাদীর শিহাব মাহমুদ বশিরের অভিযোগ, ফুডপান্ডার কর্মকর্তারা প্রভাব খাটিয়ে পণ্য নষ্ট দেখিয়ে ভুয়া ফেরত চালান তৈরি করেন, অথচ সরবরাহকৃত পণ্য গ্রহণের সময় গুণগত মান যাচাই করেই গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া, নামমাত্র এক-দুই বা একশ টাকার কম পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে বাকী পাওনা গড়িমসি করেন। তিনি অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকিরও অভিযোগে আগেও আলোচনায় এসেছে, যা এনবিআর-এর বিভিন্ন তদন্ত ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
শিহাব মাহমুদ বশির জানান, একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও পাওনা পরিশোধ না করে সম্প্রতি তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এছাড়া হঠাৎ করে ক্রয় আদেশ বন্ধ করে দেওয়ায় তার গুদামে সংরক্ষিত পণ্য মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়, এতে তার আরও প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ব্যবসায়ী শিহাব মাহমুদ বশির বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডা ও পান্ডামার্ট প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। আমি একা নই এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন আরও বহু ভুক্তভোগী। আমি আইন ও আদালতের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশায় আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।
এ বিষয়ে ফুডপ্যান্ডার সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য জানানো হয়, আইপিএলই ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের মালিকের দায়ের করা মামলা নিয়ে ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের বক্তব্য, ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশ ও প্রতিষ্ঠানটির ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইপিএলই ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের মালিক শিহাব মাহমুদ বশিরের দায়ের করা মামলাগুলোয় যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ফুডপ্যান্ডা ও এর কর্মীদের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে এ অপচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অতীতেও ফুডপান্ডা ও পান্ডামার্টের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকি এবং একচেটিয়া ব্যবসার অভিযোগ উঠেছিল। ২০২০ সালে ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৪০ লাখ ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ ওঠে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন (বিসিসি) ফুডপান্ডাকে একচেটিয়া ব্যবসা পরিচালনার জন্য ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। এই নতুন মামলা অনলাইন ফুড ও গ্রোসারি ডেলিভারি খাতের স্বচ্ছতা ও ব্যবসায়িক নীতির ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।






















