দেশের উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন দশকের পথচলায় যুক্ত হলো এক নতুন মাইলফলক। যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বনামধন্য শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) প্রকাশিত ‘এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং ২০২৬’-এ বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। এশিয়ার ১ হাজার ৫২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দেশের মোট ৪৬টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ১০০০-এর মধ্যেই রয়েছে ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রকাশিত র্যাংকিং অনুযায়ী, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (NSU)। বিশ্ববিদ্যালয়টি এশিয়ায় ১৪৯তম স্থান দখল করে প্রথমবারের মতো সেরা দেড়শর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। কিউএস র্যাংকিংয়ে দেশসেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরই সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে এনএসইউ।
র্যাংকিংয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এশিয়ায় অবস্থান ২২১)। এছাড়া ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি (২৬০) এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি (৪৯১) এশিয়ার সেরা ৫০০-এর মধ্যে স্থান করে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান তুলে ধরেছে।
সেরা ১০০০-এ থাকা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ
তালিকায় স্থান পাওয়া অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে:
আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি: ৫১৮তম
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (IUB): ৫৭৪তম
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (IUBAT): ৬৪৪তম
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (UIU): ৬৫১তম
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি: ৭৪১-৭৫০ এর মধ্যে
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (AIUB): ৭৭১-৭৮০ এর মধ্যে
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ: ৭৮১-৭৯০ এর মধ্যে
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক: ৯০১-৯৫০ এর মধ্যে
র্যাংকিংয়ে এই ধারাবাহিক উন্নতির বিষয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “আমরা হাই-ইমপ্যাক্ট পাবলিকেশন, সাইটেশন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী আকর্ষণে জোর দিচ্ছি। প্রথমবার এশিয়ার সেরা ১৫০-এর মধ্যে স্থান পাওয়া আমাদের গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ।”
একইভাবে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিও ২০২২ সালের তুলনায় তাদের অবস্থান ১২০০-১৪০০ থেকে এক লাফে ১০০১-১২০০-এর মধ্যে নিয়ে এসেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মান ও গবেষণায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তুলনামূলক পিছিয়ে আছে। পিছিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কীভাবে সামনে এগিয়ে আনা যায়, কমিশন তা নিয়ে কাজ করছে।”
বর্তমানে দেশে ১১ লাভ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৫টিতে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে, যেখানে ৩ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। উচ্চশিক্ষার এই বিশাল পরিধি ও আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে ক্রমবর্ধমান সাফল্য বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের স্নাতকদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






















