হে অসহায় বঙ্গ জননী,
তুমি কি আজও শুনতে পাও না
তোমার সন্তানের রক্তের আর্তনাদ?
পঞ্চাশ নয়, চুয়ান্ন বছর কেটে গেছে,
কেউ কথা রাখেনি—
শুধু রেখেছে প্রতিশ্রুতির মরীচিকা
আর স্বপ্নের মলিন ছায়া।
তুমি দেখেছো—
শেন হুন, পাঠান, সুলতান,
পর্তুগিজের দাস-শৃঙ্খল,
ইংরেজের নীল-নরক,
পাকিস্তানের পাঞ্জাবি শোষণ—
সবাই এসেছে,
তোমার বুকে সোনালী ধানের গন্ধ শুঁকে
তারপর ছিঁড়েছে, পোড়িয়েছে,
রক্ত মেখেছে তোমার সবুজ মাঠে।
হে বঙ্গ জননী,
তুমি কি ভুলে গেছো ১৯৭১?
যখন ৩০ লক্ষ প্রাণ
তোমার পতাকার জন্য দিয়েছে জীবন,
দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম ছিঁড়ে গেছে
একটি স্বাধীন মানচিত্রের বিনিময়ে।
জাতীয় কবির কণ্ঠে তখন ধ্বনিত হয়েছিল
“বল বীর,
বল উন্নত মম শীর
“জয় হোক বাংলার! জয় হোক বাঙালির!”
তবু কেন আজও তোমার সেই জয়ের দিন
আমাদের আঙুলে ধরা দেয় না?
বঙ্গের আকাশে একদিন
রবীন্দ্রনাথ গেয়েছিলেন—
“আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”—
তুমি কি শুনতে পাওনি সেই শপথের সুর?
লালন গেয়েছিলেন—
“সোনার মানুষ হবে”—
তুমি কি দেখেছো সেই সোনার মানুষ?
না, তাদের বদলে এসেছে
শোষক, সুযোগসন্ধানী, ক্ষমতালোভী।
তুমি দেখেছো ছাত্র আন্দোলন—
১৯৫২-এর ভাষা-যুদ্ধ,
১৯৭১-এর মুক্তির অগ্নি,
১৯৯০-এর স্বৈরাচার পতন,
২০২৪-এর রক্তাক্ত গণ আন্দোলন;
হাজারো ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, মজুর,
ডাল-ভাতের দাবিতে জীবন দিয়েছে,
তবু আজও বাংলার ঘরে
অর্ধেক চুলা নেভা,
ক্ষুধার জ্বালা অব্যাহত।
প্রবাসের পথে লক্ষ প্রাণ
বিদেশের সমুদ্রে ডুবে গেছে
প্রিয়জনের অন্ন খুঁজতে গিয়ে।
হে বঙ্গ জননী,
তোমার সন্তানরা কেন দুধভাত পায় না?
তোমার ক্ষেত খালি,
তোমার নদী দূষিত,
তোমার আকাশে ধোঁয়া।
তুমি কি শুনতে পাও
সুকান্তের কণ্ঠে সেই ঘোষণা—
“এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে যাবো”—
আমরা কি সেই পৃথিবী পেলাম?
জীবনানন্দের নীরব বাংলায়
আজও ধানের গন্ধ মেশে,
তবু সেই বাংলার বুক
আধপেটা ক্ষুধায় নীরব কাঁদে।
হে অসহায় বঙ্গ জননী,
আমরা হাত বাড়িয়ে বলি—
এসো, আমাদের মুক্তি দাও!
তোমার সন্তানদের আবার দাও
শস্যে ভরা মাঠ,
শান্তির আকাশ,
মানবিক গণতন্ত্র।
আজও তোমার মুক্তি অসম্পূর্ণ,
তবু আমরা প্রতিজ্ঞা করি—
এই রক্তের ঋণ শোধ করবো,
তোমার সোনার মানুষ হবো।
রবির সোনালী সকাল,
নজরুলের বিদ্রোহী ডাক,
লালনের মানবধর্ম,
সুকান্তের প্রতিজ্ঞা,
জীবনানন্দের বাংলার গন্ধ—
সব মিলিয়ে গড়বো
তোমার পূর্ণ স্বাধীনতা।
হে অসহায় বঙ্গ জননী,
তুমি কেঁদো না—
তোমার সন্তানেরা আবারও শপথ নিলো—
“জয় হোক বাংলার!
জয় হোক বাঙালির!
জয় হোক মানবতার!”
লেখক : মালেক বাচ্চু, সহকারী মহাব্যবস্থাপক, জনতা ব্যাংক পিএলসি; এলামনাই, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।





















