আলেয়া খাতুন তাড়াশের জাফর ইকবাল কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মাস তিনেক আগে তিনি ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) কার্যক্রমে যুক্ত হতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন।
গত রোববার ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং ট্রেড বিষয়ের এই শিক্ষকের মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে ঢাকার কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মকর্তা দাবি করে বলেন, তাঁর ইএফটি কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে পাঠদানের বিষয়ের নাম ভুল আছে। সংশোধনের জন্য বিকাশে ১৫০০ টাকা পাঠাতে হবে। টাকা না পাঠালে ইএফটি অসম্পূর্ণ থাকবে। তিনি বেতন- ভাতা পাবেন না। সরল বিশ্বাসে ওই শিক্ষক বিকাশ নম্বরে ১৫০০ টাকা পাঠান।
আলেয়া খাতুনের মতো এ ধরনের ফোন কল পেয়েছেন তাঁর সহকর্মী শিক্ষক রেহেনা খাতুন, ফাহিমা খাতুন, মো. নূরুল ইসলাম, গৌতম কুমার। তারা ছাড়াও উপজেলার ৪-৫টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্তত ৫৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী ফোন পেয়েছেন। একই পন্থায় ইএফটির জন্য পাঠানো কাগজপত্রে নানা ভুলের কথা বলে বিকাশে ১৫০০-২০০০ টাকা দাবি করা হয়েছে তাদের কাছে। প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করে অনেক সহজসরল শিক্ষক-কর্মচারী টাকাও পাঠিয়েছেন।
প্রতারণার বিষয়ে রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া বিজ্ঞান কারিগরি ও কৃষি প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবু তালেব জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী এ ধরনের কল পেয়েছেন। প্রতারক চক্র ইএফটি ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষকের স্কেল নিতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো কাগজপত্রে পাঠদানের বিষয়ের নাম ভুল, নিয়োগ, যোগদানপত্রে ত্রুটিসহ নানা বিষয়ে সংশোধনের কথা বলে বিকাশে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকচক্র।
ভুক্তভোগী শিক্ষক আলেয়া খাতুন জানান, যারা টাকা চাচ্ছেন তারা আসলে প্রতারক কিনা বোঝা কষ্টকর। প্রতারকরা বিশ্বাস জন্মাতে মোবাইলে যাদের কাছে বিকাশে টাকা চাচ্ছে তাদের নাম, পাঠদানের বিষয়, এমনকি জন্ম, নিয়োগ, যোগদানের তারিখসহ সব তথ্য অবিকল মেসেঞ্জারে পাঠাচ্ছে। যে তথ্য কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ছাড়া অন্য কারও কাছে থাকার কথা নয়।
ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দাবিদার আহসান হাবিবের ফোন নম্বর নিয়ে তাঁকে কল করা হয়। ইএফটির নামে বিকাশে টাকা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী বলেন, চলমান ইএফটি কার্যক্রমকে পুঁজি করে একটি চক্র তিন-চার মাস ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে বিকাশে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব তথ্য বাইরের কারও কাছে যাওয়ার কথা না। তাদের ধারণা, প্রতারক চক্রের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে কেউ জড়িত।
দপ্তরের কেউ জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়, বগুড়া শেরপুরের আঞ্চলিক পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ইএফটি, জ্যেষ্ঠ প্রভাষকের স্কেল, উপবৃত্তি বা অন্য যে কোনো কার্যক্রমকে পুঁজি করে প্রতারণা চলছে। অধিদপ্তর থেকে অনেক আগেই এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।






















