প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের নতুন নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সরাসরি নিয়োগের ২০ শতাংশ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের মধ্য থেকে। রবিবার (৩ অক্টোবর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট প্রকাশিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা’ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এতে বলা হয়েছে, সরাসরি নিয়োগযোগ্য মোট ৯৩ শতাংশ পদ মেধাভিত্তিক প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণ করা হবে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ পদ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, আর বাকি ৮০ শতাংশ পদ অন্যান্য বিষয়ে স্নাতকদের জন্য।
এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য মোট ৫ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা বা থানাভিত্তিকভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের পর সবাইকে নির্ধারিত শিক্ষানবিশি মেয়াদ শেষে কর্মদক্ষতা ও আচরণে সন্তোষজনক বিবেচিত হলে চাকরি স্থায়ী করা হবে। তবে কেউ সন্তোষজনক পারফরম্যান্স দেখাতে না পারলে, তার চাকরি বাতিল বা পূর্বের পদে ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের থাকবে।
এছাড়া নিয়োগের পর চার বছরের মধ্যে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যারা ৫০ বছর বয়সে পদোন্নতি বা স্থায়ী হওয়ার যোগ্য হবেন, তাদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার ও প্রশিক্ষণের শর্ত কিছু ক্ষেত্রে শিথিল করা যেতে পারে বলেও বিধিমালায় বলা হয়েছে।
বিধিমালা কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ১২তম গ্রেডে কর্মরত প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত হওয়ার পর ১৮ মাসের মধ্যে মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে প্রশিক্ষণ শেষ না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিত করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।






















