গ্রীষ্মকালে ফ্রিজের ব্যবহার বেড়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে খাবার, ফল, শাকসবজি এবং পানীয় ঠান্ডা রাখতে ফ্রিজকে বেশি কাজ করতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ খরচও বাড়ে। তবে সঠিক তাপমাত্রা সেট করলে খাবার ভালো রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলও কিছুটা কমানো সম্ভব।
গরমে ফ্রিজের সেটিং কত হওয়া উচিত?
বেশিরভাগ ফ্রিজে ১ থেকে ৫ বা ১ থেকে ৬ পর্যন্ত কুলিং লেভেল থাকে। অনেকেই মনে করেন সর্বোচ্চ কুলিংয়ে রাখলে ফ্রিজ ভালো কাজ করবে। বাস্তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঠান্ডা করলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।
গরমের সময় সাধারণত ৪ বা ৫ নম্বর কুলিং লেভেল যথেষ্ট। এতে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা নিরাপদ মাত্রায় থাকে এবং খাবারও দীর্ঘ সময় ভালো থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজের মূল অংশের তাপমাত্রা প্রায় ১.৭ থেকে ৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকাই সবচেয়ে উপযুক্ত।
ফ্রিজারে কত তাপমাত্রা রাখা ভালো?
যদি ফ্রিজারে মাছ, মাংস বা সামুদ্রিক খাবার সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখা উচিত। সাধারণ ফ্রিজে যার নব ৪ থেকে ৬ নম্বর সেটিং। এতে খাবারের গুণমান বজায় থাকে এবং জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি কমে।
খাবারের পরিমাণ অনুযায়ী কুলিং ঠিক করুন
ফ্রিজে যদি কম খাবার থাকে, তাহলে কুলিং লেভেল কিছুটা কমিয়ে রাখা যায়। অন্যদিকে ফ্রিজ ভর্তি থাকলে ঠান্ডা বাতাস সমানভাবে ছড়াতে বেশি কুলিং প্রয়োজন হতে পারে। তাই ফ্রিজের ব্যবহার অনুযায়ী সেটিং পরিবর্তন করা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের একটি কার্যকর উপায়।
বিদ্যুৎ বিল কমানোর আরও কিছু উপায়
১. নিয়মিত ডিফ্রস্ট করুন
ফ্রিজারের ভেতরে অতিরিক্ত বরফ জমলে কুলিং সিস্টেমের উপর চাপ বাড়ে। ফলে বিদ্যুৎ খরচও বৃদ্ধি পায়। প্রয়োজনমতো ডিফ্রস্ট করলে ফ্রিজ আরও দক্ষভাবে কাজ করে।
২. সঠিক জায়গায় ফ্রিজ রাখুন
ফ্রিজের চারপাশে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা থাকা জরুরি। দেওয়াল বা আসবাবের সঙ্গে একেবারে লাগিয়ে রাখলে তাপ বের হতে সমস্যা হয় এবং বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়।
৩. তাপ উৎপন্নকারী যন্ত্র থেকে দূরে রাখুন
গ্যাসের চুলা, ওভেন বা মাইক্রোওয়েভের পাশে ফ্রিজ রাখলে বাইরের তাপমাত্রার প্রভাব পড়ে। এতে কম্প্রেসরকে বেশি সময় চালু থাকতে হয়।
৪. দরজা বারবার খুলবেন না
প্রতিবার দরজা খোলার সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায়। ফলে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।
৫. নিয়মিত পরিষ্কার করুন
ফ্রিজের কনডেনসার ও ভেন্টে ধুলো জমলে কুলিং দক্ষতা কমে যায়। তাই অন্তত এক থেকে তিন মাস অন্তর পরিষ্কার করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং ফ্রিজের আয়ুও বাড়ে।
















