বিশ্বজুড়ে অনেক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীই এখন সচেতনভাবে তাদের স্ক্রিনটাইম কমানো, মনোযোগ ফেরানো ও বাস্তব জীবনে ফিরে আসার জন্য ফোন থেকে নিজেকে বিরত রাখতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেকইউজঅব (এমইউও) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমন এক ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, যিনি নিজের ফোনকে প্রায় ‘একঘেয়ে’ বানিয়ে প্রতিদিনের স্ক্রিনটাইম ৫-৬ ঘণ্টা থেকে নামিয়ে এনেছেন মাত্র ১ ঘণ্টায়। সে প্রতিবেদনের আলোকে কীভাবে স্ক্রিনটাইম কমানো যায় এর উপায় নিম্নে আলোচনা করা হলো—
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে ফেলা
প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রথম ধাপ ছিল অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে ফেলা। জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও এক্স (সাবেক টুইটার) একে একে আনইনস্টল করে ফেলা যায়। পাশাপাশি ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, প্রাইম ভিডিও ও সময় নষ্টকারী গেমস মুছে ফেলা যায়। এমনকি গুগল ডিসকভার পর্যন্ত বন্ধ করা যায়, যাতে অযথা কনটেন্টের ভিড়ে ডুবে যেতে না হয়।
অত্যাবশ্যক অ্যাপগুলো যেমন ব্যাংকিং অ্যাপ, মেসেজিং বা গ্যালারি রাখা হলেও ফোনের প্রতি আকর্ষণ তখন অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়। ফলে বারবার ফোন দেখার বা ফোনে সময় কাটানোর প্রবণতা কমে আসে এবং অনবরত ফিড রিফ্রেশ বা নতুন কিছু দেখার চাপ অনেকটাই দূর হয়।
নোটিফিকেশন কমিয়ে আনা
অ্যাপ কমানোর পরও নানা ধরনের নোটিফিকেশন ব্যবহারকারীকে ফোনের দিকে আকর্ষণ করে। এমইউও প্রতিবেদনের সেই লেখক তাই সব নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিয়েছেন, কেবল ফোনকল ও এসএমএস ছাড়া। এতে একধরনের শান্ত পরিবেশ তৈরি হয় আর অ্যাপের পিং বা ব্যানার থেকে জন্ম নেয়া অস্থিরতা বা কৌতূহল কমে যায়।
যারা একই কাজ করতে চান, তারা চাইলে আলাদা অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করতে পারেন, অথবা ফোনের ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোড চালু করে কেবল কল ও মেসেজকে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখতে পারেন। প্রথম দিকে হয়তো ফোনে কোনো নোটিফিকেশন না দেখে অস্বস্তি লাগতে পারে, কিন্তু এটাই মূল উদ্দেশ্য—অভ্যাসের ফাঁদ থেকে বের হওয়া।
হোম ও লকস্ক্রিনকে একেবারে সাদামাটা করা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লকস্ক্রিন ও হোমস্ক্রিন যত সহজ আর সাদামাটা রাখা যায় তত ভালো। সব উইজেট, শর্টকাট ও অ্যানিমেশন সরিয়ে ফেলা যায়, এমনকি ওয়ালপেপারও কালো রঙের ফ্ল্যাট ব্যাকগ্রাউন্ড করা যায়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট আনলকও বন্ধ করে দিতে পারেন, যাতে প্রতিবার পিন টাইপ করতে হয়। এতে করে ছোট হলেও কার্যকর একটি ঝামেলা তৈরি করে। ফলে বারবার ফোন দেখতে বিরক্তির উদ্রেগ হতে পারে।
চাইলেই ব্যবহারকারীরা মিনিমালিস্ট ফোন, বিফোর লঞ্চার বা ওলঞ্চার নামের অ্যাপ ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন একটি সাধারণ ইন্টারফেস তৈরি করতে পারেন। একটি মাত্র হোমস্ক্রিন ও কম শর্টকাটের কারণে ফোন তখন আর বিনোদনের জায়গা থাকে না, বরং হয়ে ওঠে শুধু একটি টুল।
রঙহীন করে মনোযোগের টান কমানো
অ্যাপ আইকন ও নোটিফিকেশনের রঙিন নকশা ব্যবহারকারীর চোখে পড়ার মতো করেই তৈরি। এমইউও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনের স্ক্রিনকে সাদা-কালো বা গ্রেস্কেল করলে সে আকর্ষণ অনেকটাই কমে যায়।
প্রথমে এটি অদ্ভুত লাগলেও দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ভিডিও দেখার প্রবণতা কমতে শুরু করে। ফোনে কুইক সেটিংসে গ্রেস্কেল শর্টকাট রেখে দেয়া যায়, যাতে প্রয়োজনে ছবি দেখা বা ম্যাপ ব্যবহার করার সময় রঙ আবার চালু করা যায়।
নতুন অভ্যাস, নতুন জীবনধারা
যদিও শুরুতে পরিবর্তনগুলো কঠিন লাগবে, পরে তা জীবনধারায় বড় পরিবর্তন আনে। স্ক্রিনটাইম ৫-৬ ঘণ্টা থেকে নেমে আসে মাত্র ১ ঘণ্টায়। এতে কাজ, পড়াশোনা ও প্রাত্যহিক জীবনের জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা হঠাৎ করে বড় পরিবর্তনের বদলে ধাপে ধাপে এগোনোর পরামর্শ দেন। এমইউও একই কথা বলেছে, প্রথমে কয়েকটি অ্যাপ সরানো বা কিছু নোটিফিকেশন বন্ধ করা, এরপর ধীরে ধীরে বাকি পরিবর্তন আনা। এতে অভ্যাস বদলানো সহজ হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে তা টেকসই হয়।
বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন আসক্তি বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ‘ডাম্ব ফোন’ পদ্ধতি অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হতে পারে। নীরব ও সরল ফোন ব্যবহার করে মানুষ তাদের মনোযোগ ফেরাতে, উদ্বেগ কমাতে ও সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে পারছে।





















