ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। জাতিসংঘের এই পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, ইরানের হাতে বর্তমানে যে পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, তা দিয়ে অন্তত এক ডজন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।
ইরানের নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (৬০ শতাংশের বেশি বিশুদ্ধ) মজুত রয়েছে।
জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানান, ধ্বংসপ্রাপ্ত কেন্দ্রগুলোর নিচে চাপা পড়ে থাকা এই উপাদান দিয়ে অনায়াসেই প্রায় ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।
পরিদর্শন বাধাগ্রস্ত ও যুদ্ধের প্রভাব গত বছর ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময় এই ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রাফায়েল গ্রোসি অভিযোগ করেন, তেহরান বর্তমানে আইএইএ পরিদর্শকদের নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহানের মতো সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
তবে আইএইএর দৃঢ় বিশ্বাস, ধ্বংসস্তূপের নিচেই এই বিশাল পরিমাণ ইউরেনিয়াম রয়ে গেছে, যা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য প্রায় উপযোগী।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক ও কড়া হুঁশিয়ারি এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন।
ট্রাম্প লেখেন, আমি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছি, যাতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায় কি না তা দেখা যায়। আমি প্রধানমন্ত্রীকে (নেতানিয়াহু) জানিয়েছি, চুক্তি হওয়াটাই আমাদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু যদি তা সম্ভব না হয়, তবে এর পরিণতি কী হবে, তা আমাদের দেখতে হবে।
পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগ ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় ‘অস্ত্র তৈরির মানের কাছাকাছি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পশ্চিমা শক্তিগুলো আশঙ্কা করছে, যদি এই উপাদানগুলো উদ্ধার করে ইরান সামরিক কাজে লাগাতে শুরু করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
বর্তমানে এই ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম কার নিয়ন্ত্রণে বা কী অবস্থায় আছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান না এলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।




















