এতদিন মধ্যপ্রাচ্য আর ইউরোপ ছিল ইরানের নিশানায়, কিন্তু এবার কি খোদ ওয়াশিংটন আর নিউইয়র্কও তেহরানের কামানের মুখে? সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, ইরান অত্যন্ত গোপনে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লার একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) পরীক্ষা করেছে। যদি এই খবর সত্যি হয়, তবে সামরিক ভারসাম্যের ইতিহাসে এটি হবে এক প্রলয়ঙ্কারি মোড়। পেন্টাগনের ঘুম হারাম করে দেওয়া এই সংবাদের ব্যবচ্ছেদ করছে যুগান্তরের বিশেষ প্রতিবেদন।
আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নাকি বাস্তব সমরাস্ত্র?
ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দাবি করলেও, পর্দার আড়ালে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।
১. স্যাটেলাইট প্রযুক্তির আড়ালে মিসাইল মিশন: ইরান সম্প্রতি মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে ‘সিমোরগ’ ও ‘কায়েম-১০০’ এর মতো শক্তিশালী রকেট ব্যবহার করছে। যুগান্তরের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, একটি রকেট যদি মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠাতে পারে, তবে সেই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কয়েক হাজার কেজি ওজনের ওয়ারহেড হাজার হাজার মাইল দূরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
২. ‘গ্লোবাল রিচ’ বা বিশ্বজুড়ে আঘাতের ক্ষমতা: ১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লার অর্থ হলো, ইরান থেকে বাটন টিপলে সেই মিসাইল আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে সরাসরি আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। সামরিক পরিভাষায় একে বলা হয় ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেপথ’, যা ইরানকে এক লাফে বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশগুলোর কাতারে নিয়ে দাঁড় করাবে।
কেন কাঁপছে পশ্চিমা বিশ্ব?
রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা: গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ইরানের নতুন প্রজন্মের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বায়ুমণ্ডলের বাইরে দিয়ে ভ্রমণ করতে পারে, যা প্রচলিত রাডার সিস্টেমে ধরা পড়া প্রায় অসম্ভব।
পারমাণবিক আশঙ্কার পারদ: পশ্চিমা দেশগুলোর ভয় হলো, এত বিশাল পাল্লার মিসাইল সাধারণত ‘নিউক্লিয়ার টিপ’ বা পারমাণবিক বোমা বহনের জন্যই তৈরি করা হয়।
প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ: আমেরিকার ‘ন্যাশনাল মিসাইল ডিফেন্স’ বা এনএমডি-র পক্ষেও এই গতির ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।
তেহরানের হুঁশিয়ারি
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন, “আমাদের কোনো সীমানা নেই।” যদিও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ হাজার কিলোমিটারের বিষয়টি স্বীকার করেনি, তবে তাদের ‘খোররামশাহর-৪’ এর মতো মিসাইলগুলোর আধুনিকায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান এখন ‘গ্লোবাল প্লেয়ার’ হওয়ার পথে।





















