ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রস্তুতি হিসেবে অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক সাবমেরিনসহ বিশাল সমরাস্ত্র মোতায়েন করছেন। কূটনৈতিক আলোচনা চললেও যুদ্ধের প্রস্তুতিতে কোনো খামতি রাখছে না ওয়াশিংটন।
সমুদ্রপথে ঘেরাও হচ্ছে ইরান
মার্কিন নৌবাহিনী ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বর্তমানে আটলান্টিক পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরের দিকে এগোচ্ছে। এটি সেখানে পৌঁছে পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর সঙ্গে যোগ দেবে। এছাড়া লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীর কাছে অন্তত পাঁচটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং উপকূলীয় যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশাল নৌবহর মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য হলো আরব দেশগুলোর ভূমি ব্যবহার না করেই সরাসরি সমুদ্র থেকে ইরানের ওপর হামলা চালানো। কারণ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়ে অনেক আরব দেশ তাদের মাটি থেকে আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে।
কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
জেনেভায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সাথে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির পরোক্ষ আলোচনায় “কিছু অগ্রগতি” হওয়ার দাবি করা হলেও মৌলিক বিষয়ে দুই পক্ষই অনড়। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে কঠোর বিধিনিষেধ চাইলেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে গত বুধবার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা বৈঠক করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে আছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি
এদিকে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান তার অভিজাত রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান সতর্ক করেছে যে, আক্রমণ করা হলে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেবে।
ইসরায়েল কানেকশন ও রুবিওর সফর
ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলায় যুক্তরাষ্ট্র একা থাকবে নাকি ইসরায়েলের সাথে যৌথ অভিযান চালাবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তবে ২৮শে ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে দেখা করবেন। নেতানিয়াহু আগে থেকেই ইরানের সাথে যেকোনো নমনীয় চুক্তির ঘোর বিরোধী।
বিক্ষোভ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও উত্তপ্ত। মার্কিন মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত ৭,০১৫ জন নিরস্ত্র বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প এই দমন-পীড়ন বন্ধের শর্তে আলোচনার কথা বললেও সামরিক প্রস্তুতির মাধ্যমে তেহরানের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছেন।
পেন্টাগনের মতে, যদি হামলা শুরু হয় তবে তা গত জুনের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে।




















