গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রথম ১৫ মাসে ৭৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা এর আগে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ঘোষিত ৪৯ হাজার মৃত্যুর চেয়ে অনেক বেশি। চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল ল্যানচেট গ্লোবাল হেলথে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ওই সময় গাজায় সহিংস মৃত্যুর শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারী, শিশু ও প্রবীণ ছিল প্রায় ৫৬ দশমিক ২ শতাংশ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও কাছাকাছি তথ্য দিয়েছিল তখন।
মাঠপর্যায়ের গবেষণাটি পরিচালনা করে প্যালেস্টাইনিয়ান সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সার্ভে রিসার্চ, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞ খলিল শিকাকি। তিনি কয়েক দশক ধরে পশ্চিম তীর ও গাজায় জনমত জরিপের সঙ্গে যুক্ত। গবেষণার প্রধান লেখক যুক্তরাজ্যে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক মাইকেল স্পাগাট।
গবেষকদের মতে, গাজা উপত্যকায় মৃত্যুহারের ওপর প্রথম স্বাধীন জনসংখ্যাভিত্তিক জরিপ এটি। ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে সাত দিন ধরে ২ হাজার ফিলিস্তিনি পরিবারের ওপর জরিপ পরিচালনা করেন তারা।
গবেষকরা লেখেন, সমন্বিত প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত গাজা উপত্যকার মোট জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ সহিংসভাবে নিহত হয়েছে। সংঘাতের পরোক্ষ প্রভাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিস্তিনি মারাও গেছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার পর গাজায় এ সামরিক অভিযান শুরু হয়। এরপর মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। গাজার হতাহত সম্পর্কে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গণ্য করে জাতিসংঘ। তারা জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার মরদেহ রয়ে গেছে।
তবে মন্ত্রণালয়টি হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েল বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে গত মাসে এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ইসরায়েলি গণমাধ্যমকে বলেন, সংখ্যাগুলো মোটামুটি সঠিক। যদিও পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, এটি তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
ল্যানসেটের গবেষকরা বলেন, তাদের বিশ্লেষণ মৃত্যুসংখ্যা অতিরঞ্জিত হওয়ার দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বরং সংঘাতের মতো চরম পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ১৫ মাসে আনুমানিক ১৬ হাজার ৩০০ ফিলিস্তিনি অ-সহিংস কারণে মারা গেছেন। এর মধ্যে রয়েছে রোগ, পূর্ববর্তী শারীরিক অবস্থা, দুর্ঘটনা বা সরাসরি যুদ্ধ-সম্পর্কিত নয় এমন অন্যান্য কারণ। তবে এসব মৃত্যু আনুমানিক ৭৫ হাজার ২০০ সহিংস মৃত্যুর বাইরে।


















