যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে টার্গেট করে সামরিক পরিকল্পনা বিবেচনা করছে—এমন খবর প্রকাশ করেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এই খবর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ছোটখাটো সামরিক ও কূটনৈতিক অপশন বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে। এই প্রেক্ষাপটে ছোট চুক্তির প্রস্তাবের পাশাপাশি সামরিক চাপও বাড়ানো হচ্ছে, যাতে তেহরান আলোচনায় বসে এবং সম্পূর্ণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র পরিত্যাগ করে।
অ্যাক্সিওসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে খুব সামান্য পরিমাণে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ (এনরিচমেন্ট) করার অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করছে, যাতে পারমাণবিক বোমা বানানোর পথ বন্ধ থাকে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক পরিকল্পনা দেখানো হয়েছে, যা সরাসরি খামেনি ও তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবাকে টার্গেট করার সুযোগ দিতে পারে।
একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, “এক পরিস্থিতিতে আয়াতুল্লাহ, তার ছেলে মোজতবা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।” তবে সূত্রগুলো বলছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এই উত্তেজনার মধ্যে, গত ২৬ জানুয়ারি ট্রাম্প উল্লেখ করেছিলেন যে ইরানের দিকে একটি বড় সামরিক বহর পাঠানো হচ্ছে এবং তিনি আশা করছেন, এটি ইরানকে আলোচনায় বসাবে এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করবে। ইতিমধ্যেই ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের রাজধানী মাসকাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন খবর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা করছে, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, যাতে কোনো বড় সংঘাত বা যুদ্ধ এড়ানো যায়।


















