মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে ইরান। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানের নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে রাশিয়ার তৈরি S-300 ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত বাভার-৩৭৩ (Bavar-373) সিস্টেম মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক ‘১২ দিনের সংঘাতের’ পর নিজেদের আকাশসীমাকে নিচ্ছিদ্র করতেই এই নতুন সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে তেহরান।
রুশ ও দেশীয় সিস্টেমের হাইব্রিড মোতায়েন
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুদ্ধে টিকে যাওয়া রুশ S-300 সিস্টেমের অবশিষ্ট অংশগুলোকে এখন সরাসরি দেশীয় বাভার-৩৭৩ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের সঙ্গে একীভূত করা হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের একীকরণ বা সমন্বিত নেটওয়ার্ক ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে তেহরান ও এর আশপাশের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ।
বাভার-৩৭৩: ইরানের নিজস্ব ‘গেম চেঞ্জার’
ইরান দাবি করে আসছে যে, তাদের বাভার-৩৭৩ সিস্টেমটি রাশিয়ার S-300-এর চেয়েও উন্নত এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি শক্তিশালী S-400-এর সমকক্ষ। ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম এই দেশীয় প্রযুক্তি এখন রুশ সিস্টেমের শূন্যস্থান পূরণ করতে শুরু করেছে।
আমেরিকার কড়া নজরদারি ও যুদ্ধের আশঙ্কা
তবে সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই মোতায়েন কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং বড় কোনো সংঘাতের প্রস্তুতির অংশও হতে পারে। উল্লেখ্য যে, ওয়াশিংটনের অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট এবং গোয়েন্দা ড্রোনগুলো ইরানের প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ সেকেন্ডে সেকেন্ডে পর্যবেক্ষণ করছে। যদি আমেরিকা কখনো ইরানে হামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা কোনোভাবেই সীমিত পরিসরে থাকবে না। ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং এই নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় যেকোনো আক্রমণকে দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধে রূপান্তর করতে পারে।





















