পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি এখন যুদ্ধের বারুদে উত্তপ্ত। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় ইরান তার নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা একে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য একটি ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। গোয়েন্দা তথ্য ও সাম্প্রতিক সামরিক মহড়া অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে আমেরিকার বিশাল রণতরী ও জাহাজগুলোকে রুখে দিতে ইরান ৬টি স্তরের এক বিধ্বংসী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
ইরানের ৬ স্তরের সামরিক মরণফাঁদ:
১. ড্রোনের বিশাল বহর: ইরান ইতিমধ্যে তাদের সমুদ্রসীমায় হাজার হাজার আত্মঘাতী ও নজরদারি ড্রোনের বহর মোতায়েন করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়া মাত্রই এই ড্রোনগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে মার্কিন রণতরীগুলোর ওপর আছড়ে পড়বে, যা তাদের রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে দেবে।
২. ‘খালিজ ফার্স’ ক্যারিয়ার কিলার: মার্কিন বিমানবাহী রণতরী বা এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ধ্বংসের জন্য ইরান তৈরি রেখেছে তাদের বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র ‘খালিজ ফার্স’। কয়েক ডজন এই ব্যালিস্টিক মিসাইল সরাসরি বড় জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম।
৩. আবু মাহাদি অ্যান্টি-শিপ মিসাইল: ইরানের হাতে থাকা ‘আবু মাহাদি’ মিসাইলটি এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অস্ত্র। প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইল গভীর সমুদ্রেই মার্কিন বহরকে আঘাত করতে পারে।
৪. ‘সোয়ার্ম অ্যাটাক’ বা স্পিডবোটের ঝাঁক: ইরানের ৩ থেকে ৫ হাজার দ্রুতগতিসম্পন্ন স্পিডবোট যুদ্ধের ময়দানে নেমে আসবে। ছোট ছোট এই নৌযানগুলোতে অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, রকেট, টর্পেডো এবং ভারী গান লাগানো থাকে। এগুলো মৌমাছির ঝাঁকের মতো বড় রণতরীকে ঘিরে ধরে চারপাশ থেকে আক্রমণ চালাবে।
৫. সাবমেরিন ও ফ্রিগেট বহর: এই ধাপে ইরানের মূল নৌবাহিনী সক্রিয় হবে। তাদের ৩০টি সাবমেরিন, ৭টি শক্তিশালী ফ্রিগেট এবং ৩ থেকে ৫টি করভেট সমুদ্রের নিচ দিয়ে ও ওপর দিয়ে সমন্বিত হামলা শুরু করবে।
৬. অন্তিম অস্ত্র: জলমাইন: যদি মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তবে শেষ রক্ষা হিসেবে ইরান সমুদ্রের তলদেশে কয়েক হাজার আধুনিক জলমাইন বসানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এটি মার্কিন জাহাজগুলোর উপকূলে ভেড়া সম্পূর্ণ অসম্ভব করে তুলবে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্য উপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থান ইরানের জন্য বড় সুবিধা। সংকীর্ণ এই জলপথে আমেরিকার বিশালকার জাহাজগুলো খুব একটা দ্রুত নড়াচড়া করতে পারে না, যা ইরানের ছোট কিন্তু দ্রুতগামী অস্ত্রগুলোর জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। যদি সরাসরি সংঘাত শুরু হয়, তবে পারস্য উপসাগর সত্যিই এক ভয়ংকর রণাঙ্গনে পরিণত হবে।





















