মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের কৌশল পরিবর্তন করতে শুরু করেছে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কাতার ও বাহরাইনের মতো উপকূলীয় ঘাঁটিগুলো থেকে তাদের প্রধান সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল সরিয়ে জর্ডানের মতো তুলনামূলক দূরবর্তী ঘাঁটিগুলোতে মোতায়েন করছে। উদ্দেশ্য—ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য বাড়তি সময় পাওয়া। তবে ইরানও বসে নেই; মার্কিন এই নতুন কৌশল মোকাবিলায় তেহরান তাদের দূরপাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার প্রস্তুত রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল: দূরত্বই কি সুরক্ষা?
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের সহজ লক্ষ্যবস্তু। জর্ডানে সরে যাওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছে:
রিঅ্যাকশন টাইম বৃদ্ধি: ইরানের মিসাইল জর্ডান পৌঁছাতে যে সময় নেবে, তার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা সহজ হবে।
রেঞ্জের সীমাবদ্ধতা: ইরানের অনেক ড্রোন ও স্বল্প পাল্লার মিসাইল জর্ডান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম নয়।
ইরানের পাল্টা প্রস্তুতি: জর্ডান ও ইসরায়েলকে ঘিরে ১০ স্তরের মিসাইল জাল
যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলের বিপরীতে ইরান তাদের হাইপারসোনিক ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো মোতায়েন করেছে, যা জর্ডান তো বটেই, এমনকি সরাসরি ইসরায়েল পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। ইরানের এই তালিকায় থাকা প্রধান ১০টি মরণাস্ত্র হলো:
১. ফাত্তাহ-১ ও ফাত্তাহ-২: এটি ইরানের প্রথম হাইপারসোনিক মিসাইল, যা যেকোনো এয়ার ডিফেন্স ফাঁকি দিতে সক্ষম।
২. খাইবার শেকান: ১৪৫০ কিমি পাল্লার এই মিসাইলটি বিশেষভাবে ইসরায়েল ও দূরবর্তী ঘাঁটির জন্য তৈরি।
৩. সেজ্জিল: অত্যন্ত দ্রুতগামী এবং ২,০০০ কিমি পাল্লার সলিড-ফুয়েল মিসাইল।
৪. খোররামশাহর-৪ (খাইবার): ২,০০০ কিমি পাল্লার এবং বিশাল ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
৫. শাহাব-৩: ইরানের দীর্ঘপাল্লার মিসাইলগুলোর মধ্যে অন্যতম নির্ভরযোগ্য সংস্করণ।
৬. হাজ কাসেম: ১,৪০০ কিমি পাল্লার এই মিসাইলটি পিন-পয়েন্ট একুরেসি বা নির্ভুল নিশানার জন্য পরিচিত।
৭. ইমাদ ও ঘাদর: দূরপাল্লার এই মিসাইলগুলো জর্ডান ও ইসরায়েলের যেকোনো লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দিতে পারে।
৮. পাভেহ (ক্রুজ মিসাইল): নিচু দিয়ে উড়ে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম ১,৬৫০ কিমি পাল্লার ক্রুজ মিসাইল।
৯. রেজওয়ান: আধুনিক গাইডেন্স সিস্টেম সমৃদ্ধ শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল।
হাজার ড্রোনের ‘সোয়ার্ম’ আক্রমণ
মিসাইলগুলোর পাশাপাশি ইরানের হাতে রয়েছে হাজার হাজার ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ড্রোন। যুদ্ধ শুরু হলে ড্রোন ও মিসাইলের সমন্বিত আক্রমণ জর্ডান বা ইসরায়েলের আইরন ডোম কিংবা প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেমকে সহজেই অকেজো করে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র জর্ডানে ঘাঁটি সরিয়ে হয়তো সরাসরি সমুদ্রতীরবর্তী হামলা থেকে বাঁচতে পারবে, কিন্তু ইরানের হাইপারসোনিক প্রযুক্তি এবং ১৬০০+ কিমি পাল্লার মিসাইলগুলো প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো মার্কিন ঘাঁটির এখন আর পুরোপুরি নিরাপদ নয়। এটি কেবল দূরত্বের লড়াই নয়, বরং গতির লড়াই।



















