গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অবৈধভাবে পরিচালিত সকল মসজিদ ও অননুমোদিত উপাসনালয় বন্ধে অভিযান শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গ্রিস সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা ধর্মীয় স্থাপনাগুলো সিলগালা করা এবং এগুলোর সঙ্গে জড়িত বিদেশী নাগরিকদের সরাসরি নিজ দেশে বিতাড়ন করা।
অভিবাসন ও আশ্রয় বিষয়ক গ্রিক মন্ত্রী থানোস প্লেভ রিস এক সংসদীয় কমিটির বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা গ্রিসের আইন মেনে চলবে না, তাদের রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতি কোনো বিলম্ব ছাড়াই বাতিল করা হবে। খবর গ্রিক সিটি টাইমস।
এই কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে মূলত এক বাংলাদেশী নাগরিকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিলের মাধ্যমে। এথেন্সের আজিওস নিকোলাওস এলাকায় অনুমতি ছাড়া একটি উপাসনালয় পরিচালনার দায়ে ওই বাংলাদেশীর রেসিডেন্স পারমিট সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে। তাকে কোনো প্রকার সময় না দিয়েই অবিলম্বে দেশত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যা গ্রিসের নতুন ২০২৫ সালের অভিবাসন আইনের ২৮ ধারার প্রথম প্রয়োগ।
পুলিশি অভিযানে উক্ত স্থানটি সিলগালা করার পাশাপাশি তাকে কারাদণ্ডও দেয়া হয়। মন্ত্রী প্লেভ রিস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আজিওস নিকোলাওসের এই ঘটনা কেবল শুরু; এথেন্সের প্রতিটি কোণায় যেখানেই অবৈধ উপাসনালয় পাওয়া যাবে, সেখানেই একই পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বর্তমানে এথেন্স ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ৬০টির মতো অবৈধ উপাসনালয় চালু রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে এই সংখ্যা একশরও বেশি ছিল বলে জানা যায়। এই স্থাপনাগুলোর বেশিরভাগই বেজমেন্ট, গ্যারেজ কিংবা পরিত্যক্ত গুদামে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি বা অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। গ্রিস কর্তৃপক্ষ এই অভিযানের মাধ্যমে একটি কঠোর বার্তা দিতে চাইছে যে, লাইসেন্সবিহীন কোনো ধর্মীয় কার্যক্রম আর সহ্য করা হবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্তে প্রবাসী ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এর ফলে সামান্য আইনি বিচ্যুতিতেও দেশ ছাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।





















