২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এই শেষভাগে এসে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন যুদ্ধের ঘনঘটা। জর্ডানের মরুভূমিতে গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের যে বিপুল সামরিক সমাবেশ ঘটেছে, তা গত এক দশকের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে জর্ডান এখন আর কেবল লজিস্টিক হাব নয়, বরং এটি এখন ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণের প্রধান ‘লঞ্চপ্যাড’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
মুয়াফফাক সালতি: মার্কিন বিমান শক্তির প্রাণকেন্দ্র
চীনা স্যাটেলাইট (MizarVision) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত মুয়াফফাক সালতি এয়ার বেস এখন মার্কিন এয়ার পাওয়ারের প্রধান আস্তানা।
যুদ্ধবিমানের বহর: এখানে বর্তমানে ৩০টি F-35A স্টিলথ ফাইটার, ২৪টি F-15E স্ট্রাইক ইগল এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের জন্য ৬টি EA-18G গ্রোলারসহ মোট ৬০টিরও বেশি আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।
অবকাঠামো: স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, ২১টি নতুন ‘হার্ডেন্ড এয়ারক্রাফট শেল্টার’ (HAS) এবং অত্যাধুনিক ফুয়েল ডিপো তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩,০০০ মার্কিন সেনা এখানে অবস্থান করছে।
টাওয়ার ২২: নজরদারির নতুন কেন্দ্র
সিরিয়া ও ইরাক সীমান্তের সংযোগস্থলে অবস্থিত টাওয়ার ২২ এখন সিরিয়ার আল-তানফ ঘাঁটির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখান থেকে ৫০০ মার্কিন সেনা সার্বক্ষণিকভাবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর গতিবিধি ট্র্যাক করছে।
ইরানের পাল্টা আঘাতের সমীকরণ
ইরান সীমান্ত থেকে এই ঘাঁটির দূরত্ব প্রায় ৮০০ থেকে ১,৫০০ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ দূরত্বে নিখুঁত আঘাত হানতে ইরান তাদের শ্রেষ্ঠ অস্ত্রগুলো প্রস্তুত রেখেছে:
ব্যালিস্টিক মিসাইল: খেইবার শেকান (Kheibar Shekan) এবং হাজ কাসেম।
হাইপারসোনিক মিসাইল: ফাত্তাহ-১ ও ফাত্তাহ-২, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা বলয় ভেঙে দিতে সক্ষম।
মার্কিন ‘লৌহবর্ম’ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ঘাঁটি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র গড়ে তুলেছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
১. THAAD (থাড): ৬টি লঞ্চার এবং শক্তিশালী AN/TPY-2 রাডার, যা বায়ুমণ্ডলের বাইরেই মিসাইল ধ্বংস করতে পারে।
২. Patriot PAC-3: ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন প্রতিরোধের জন্য মোতায়েন রয়েছে।
৩. ইলেকট্রনিক ওয়্যারফেয়ার: ইরানের ‘শহীদ’ ড্রোনের নেভিগেশন জ্যাম করার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি বসানো হয়েছে।
সাফল্যের সম্ভাবনা ও চীনা ফ্যাক্টর
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হামলার ধরনই নির্ধারণ করবে ফলাফল:
ব্যালিস্টিক হামলা: সফলতার সম্ভাবনা মাত্র ১৫-২০%।
সোয়ার্ম অ্যাটাক (একসাথে ১০০+ ড্রোন): সফলতার সম্ভাবনা ৪০-৫০%।
হাইপারসোনিক হামলা: এর গতি ও ম্যানুভারেবিলিটির কারণে এটি প্রতিহত করা মার্কিন ডিফেন্সের জন্য প্রায় অসম্ভব।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো চীনা সমর্থন। বেইজিং তাদের রিয়েল-টাইম স্যাটেলাইট ডাটা ইরানের সাথে শেয়ার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মার্কিন ঘাঁটির প্রতিটি ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বা দুর্বল দিক ইরানের কাছে প্রকাশ করে দিচ্ছে।
জর্ডান এখন একটি ‘পাউডার কেগ’ বা বারুদের ড্রাম। ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অবস্থানের কারণে এই ঘাঁটির গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি এটি ইরানের কাছে এক নম্বর টার্গেটে পরিণত হয়েছে। যদি ইরান হামলা চালায়, তবে মার্কিনীদের পাল্টা জবাব হতে পারে সরাসরি ইরানের পরমাণু কেন্দ্র বা তেল ক্ষেত্রগুলোতে আঘাত। মধ্যপ্রাচ্য এখন এক মহাসংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।




















