কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নতুন নৌ-প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে ইরান। শনিবার তেহরান জানিয়েছে, তারা দীর্ঘ পাল্লার একটি নতুন নৌ-বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে, যা সমুদ্রপথে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় ‘প্রতিরক্ষা বেষ্টনী’ তৈরি করতে সক্ষম।
ইরানের আধাসামরিক সংবাদ সংস্থা ফারস-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘সাইয়াদ-৩জি’ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি মূলত যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এটিই সমুদ্রে দীর্ঘ পাল্লার ভার্টিক্যাল-লঞ্চ (উল্লম্বভাবে উৎক্ষেপণযোগ্য) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রথম কার্যকরী ব্যবহার।
চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এই সামরিক মহড়ায় ইরানের পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের নৌবাহিনীও অংশ নেয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়।
ইরানের এই শক্তি প্রদর্শন এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যদি নতুন পারমাণবিক শর্তে রাজি না হয়, তবে তিনি সীমিত আকারে সামরিক হামলার কথা ‘বিবেচনা’ করছেন। এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরীসহ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন।
এত উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। গত মঙ্গলবার জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের দাবি জানায়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি ওয়াশিংটনের কাছে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং অন্যদিকে কূটনৈতিক দর কষাকষি—এই দুই কৌশলে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।




















