মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসরায়েলের উত্তর, পূর্ব এবং দক্ষিণ—তিন দিক থেকেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) তাদের উপস্থিতি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সালের সংঘাতের পর ২০২৬ সালের শুরুতে এসে আইআরজিসি এখন আর কেবল আড়ালে নয়, বরং সরাসরি ফ্রন্টলাইনে অবস্থান করছে।
১. সিরিয়া ও লেবানন ফ্রন্ট: ‘ইউনিট ১১,০০০’ ও কুদস ফোর্স
ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো সিরিয়া ও লেবাননে আইআরজিসি-র সরাসরি উপস্থিতি।
লেবানন: সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, আইআরজিসি-র বেশ কয়েকজন সিনিয়র অফিসার লেবাননের বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর মিসাইল ইউনিটগুলোকে সরাসরি ব্রিফিং করছেন। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে আইআরজিসি এখন ‘নিজেদের কমান্ডে’ সবকিছু পরিচালনা করছে।
সিরিয়া: সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে গোলান মালভূমির কাছে আইআরজিসি-র বিশেষ ‘ইউনিট ১১,০০০’ সক্রিয় রয়েছে। এই ইউনিটের প্রধান কাজ হলো ইসরায়েলের ভেতর সরাসরি ড্রোন ও মিসাইল হামলার পরিকল্পনা করা।
২. জর্ডান ও ইরাক সীমান্ত: নজরদারির নতুন বলয়
যুক্তরাষ্ট্র যখন তাদের ঘাঁটিগুলো জর্ডানে সরিয়ে নিচ্ছে, আইআরজিসি তখন ইরাক ও সিরিয়া সীমান্তের সংযোগস্থলে তাদের ড্রোন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করেছে।
টাওয়ার ২২ ও আল-তানফ: এই অঞ্চলগুলোতে মার্কিন সেনাদের ওপর নজরদারি করতে আইআরজিসি-র কুদস ফোর্স বিশেষ ড্রোন স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে।
ইরাকি মিলিশিয়া: ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এখন সরাসরি আইআরজিসি-র নির্দেশে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর ইলাত (Eilat) লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
৩. ‘ফিঙ্গার অন দ্য ট্রিগার’: আইআরজিসি-র হুঁশিয়ারি
আইআরজিসি-র কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের বাহিনীর “আঙুল এখন ট্রিগারে”। যদি আমেরিকা বা ইসরায়েল ইরানের কোনো পারমাণবিক বা সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে, তবে আইআরজিসি কেবল প্রক্সি নয়, বরং সরাসরি মিসাইল হামলা শুরু করবে।
৪. ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগর: নৌ-অবরোধের হুমকি
ইসরায়েলি ও মার্কিন জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে আইআরজিসি নেভি (IRGCN) ওমান সাগরে কয়েকশ ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট মোতায়েন করেছে। ওমান সাগরে চীনের Liaowang-1 সিস্টেম মোতায়েন হওয়ার পর আইআরজিসি এখন আরও নির্ভুলভাবে মার্কিন ও ইসরায়েলি নৌ-মুভমেন্ট ট্র্যাক করতে পারছে।
ইসরায়েল বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণে দ্বিমুখী হুমকির মুখে রয়েছে। একদিকে হিজবুল্লাহর পুনর্গঠন আর অন্যদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে আইআরজিসি ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রুটগুলো অকেজো করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২৬ সালের এই মুহূর্তে আইআরজিসি-র কৌশল হলো—সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে ইসরায়েলকে একটি ‘দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার’ মধ্যে রাখা।




















