মধ্যপ্রাচ্যের নৌ-যুদ্ধের সমীকরণ চিরতরে বদলে দিতে চীনের সঙ্গে একটি মেগা ডিল চূড়ান্ত করেছে ইরান। রয়টার্স ও দ্য টেলিগ্রাফের মতো প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে, চীন তাদের অত্যাধুনিক জাহাজ-বিধ্বংসী মিসাইল CM-302 (YJ-12-এর রপ্তানি সংস্করণ) এর প্রযুক্তি পুরোপুরি ইরানের হাতে তুলে দিচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা একে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর জন্য ‘যমদূত’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
কেন CM-302-কে বলা হচ্ছে ‘ক্যারিয়ার কিলার’?
আমেরিকার বিখ্যাত ‘হার্পুন’ (Harpoon) মিসাইলের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী এই CM-302। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
সুপারসনিক গতি: এটি শব্দের চেয়ে প্রায় ৩ গুণ বেশি দ্রুত গতিতে (Mach 3+) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ফলে মার্কিন ‘এজিস’ (Aegis) ডিফেন্স সিস্টেমের পক্ষে একে ঠেকানো প্রায় অসম্ভব।
সি-স্কিমিং টেকনোলজি: মিসাইলটি সাগরের পানি ঘেঁষে এত নিচু দিয়ে ওড়ে যে, রাডার একে শনাক্ত করার আগেই এটি জাহাজে আছড়ে পড়ে।
ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা: এটি ২৫০ কেজি ওজনের শক্তিশালী বিষ্ফোরক বহন করতে পারে। একটি সরাসরি আঘাত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বা জেরাল্ড ফোর্ডের মতো রণতরীকে অকেজো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি
এই চুক্তিতে চীন আন্তর্জাতিক কোনো নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করেনি। কারণ:
১. মুদ্রা: লেনদেন হচ্ছে চীনের নিজস্ব মুদ্রা ইয়েনে, কোনো ডলার ব্যবহৃত হচ্ছে না।
২. বিনিময়: ইরান এই মিসাইল প্রযুক্তির বিনিময়ে চীনকে দীর্ঘমেয়াদে তেল সরবরাহ করবে।
৩. প্রযুক্তি হস্তান্তর: চীন কেবল মিসাইল দিচ্ছে না, বরং ইরানেই এটি তৈরির পূর্ণাঙ্গ কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। ফলে ইরান এখন নিজের প্রয়োজনমতো ‘আনলিমিটেড’ মিসাইল তৈরি করতে পারবে।
মোতায়েন কৌশল: অবরুদ্ধ পারস্য উপসাগর
ইরান এই মিসাইলগুলো তাদের ভূমিভিত্তিক লঞ্চপ্যাড ছাড়াও নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক শহীদ সোলেইমানী ক্লাস করভেট এবং মাওজ ক্লাস ফ্রিগেটে বসানোর পরিকল্পনা করছে। ৩০০ কিলোমিটার রেঞ্জের এই মিসাইল মোতায়েন হলে:
পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপকূল পর্যন্ত উত্তর আরব সাগরে মার্কিন রণতরীগুলোর প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যাবে।
মার্কিন স্ট্রাইকার গ্রুপগুলো সবসময় ইরানের এই অদৃশ্য কামড় থেকে বাঁচার জন্য দৌড়ের ওপর থাকবে।
যুগান্তর বিশ্লেষণ
এটি কেবল একটি সামরিক চুক্তি নয়, বরং আমেরিকার বিরুদ্ধে চীন ও ইরানের এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক জয়। ওমান সাগরে চীনের Liaowang-1 গোয়েন্দা ব্যবস্থা মোতায়েনের পর এই CM-302 মিসাইল যুক্ত হওয়া মানে হলো—পারস্য উপসাগরে মার্কিন আধিপত্যের চূড়ান্ত সমাপ্তি। ২০২৬ সালের এই নতুন সমীকরণে নৌ-পথে ইরান জয় করা এখন মার্কিন হায়নাদের জন্য স্রেফ একটি দিবাস্বপ্ন।





















