রাশিয়া ও চীনের সরাসরি ইরানের হয়ে যুদ্ধে নামার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সামরিক চুক্তি এখন পর্যন্ত নেই। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এই উত্তাল সময়ে দেশ তিনটির মধ্যে কৌশলগত এবং সামরিক সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা অনেক বিশ্লেষকের মতে একটি “অঘোষিত প্রতিরক্ষা বলয়” হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. ‘ম্যারিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট ২০২৬’ ও যৌথ মহড়া
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে ইরান, রাশিয়া এবং চীন ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরে ‘Maritime Security Belt 2026’ নামক একটি বড় ধরনের যৌথ নৌ-মহড়া শুরু করেছে।
তাৎপর্য: এটি মূলত আমেরিকার জোড়া ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ মোতায়েনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী পাল্টা বার্তা।
অংশগ্রহণ: চীনের অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার ‘Tangshan’ এবং রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ ‘Marshal Shaposhnikov’ এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এটি কেবল প্রশিক্ষণ নয়, বরং ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি বেইজিং ও মস্কোর একটি স্পষ্ট সমর্থন।
২. ত্রিপক্ষীয় কৌশলগত চুক্তি (Strategic Pact)
২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ইরান, রাশিয়া এবং চীন একটি ‘Comprehensive Strategic Pact’ স্বাক্ষর করেছে।
এই চুক্তিটি দেশ তিনটির মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি সামরিক সমন্বয় (Military Coordination)-কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
যদিও এটি সরাসরি কোনো ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স ট্রিটি’ (একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশ যুদ্ধে নামবে) নয়, তবে যুদ্ধের সময় রিয়েল-টাইম তথ্য এবং লজিস্টিক সহায়তার বিষয়টি এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৩. রুশ ও চীনা সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ
ইরান যাতে এককভাবে যুদ্ধের ধকল সইতে পারে, সেজন্য রাশিয়া ও চীন ব্যাপকভাবে প্রযুক্তি সরবরাহ করছে:
রাশিয়া: গত ডিসেম্বরে ইরানের সঙ্গে কয়েকশ কোটি ইউরোর অস্ত্র চুক্তি করেছে, যার অধীনে Verba MANPADS এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হচ্ছে।
চীন: ইরানের নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করতে চীনের বিখ্যাত জাহাজ-বিধ্বংসী মিসাইল CM-302 (YJ-12E)-এর প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রায় নিশ্চিত। এছাড়া ওমান সাগরে চীনের Liaowang-1 সিস্টেম ইরানকে মার্কিন মুভমেন্ট ট্র্যাক করতে সাহায্য করছে।
৪. যুদ্ধের সম্ভাবনা: সরাসরি বনাম পরোক্ষ
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া ও চীন সরাসরি মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করতে চাইবে না। তবে ইরান আক্রান্ত হলে তারা যা করবে:
রাশিয়া: ড্রোন প্রযুক্তি, মিসাইল গাইডেন্স এবং স্যাটেলাইট জ্যামিং প্রযুক্তিতে ইরানকে সরাসরি সহায়তা দেবে।
চীন: ইরানকে রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্স ডেটা শেয়ার করবে এবং অর্থনৈতিকভাবে ইরানের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা অকেজো করে দেবে।






















