তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান তাদের বিধ্বংসী পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (IRGC) নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রাথমিক ধাপে ৩০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছে।
মিসাইলগুলো ছোড়ার পরপরই পুরো ইসরায়েলজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠেছে। বিশেষ করে তেল আবিব, জেরুজালেম এবং নেগেভ মরুভূমি এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF) দেশের সকল নাগরিককে অবিলম্বে নিকটস্থ শেল্টারে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরায়েলের বহুল আলোচিত ‘অ্যারো-৩’ (Arrow-3) এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ (David’s Sling) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এই মুহূর্তে কাজ শুরু করেছে। জেরুজালেমের আকাশে বেশ কিছু মিসাইল ইন্টারসেপ্ট বা ধ্বংস করার বিকট শব্দ শোনা গেছে। তবে ৩০টি মিসাইলের সবকটি ঠেকানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম (Tasnim) জানিয়েছে, এটি কেবল শুরু। যদি ইসরায়েল বা আমেরিকা আরও হামলা চালায়, তবে ইরান তাদের ‘ফাত্তাহ’ হাইপারসোনিক মিসাইল ব্যবহার করবে, যা যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি এখন তাদের লক্ষ্যবস্তু।
হামলার কারণে ইসরায়েল এবং ইরান উভয় দেশই তাদের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। জর্ডান এবং ইরাকের আকাশপথ দিয়েও কোনো বেসামরিক বিমান চলাচল করছে না। মাঝ আকাশে থাকা বিমানগুলোকে অন্য দেশে জরুরি অবতরণ করানো হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের কবলে। ৩০টি ব্যালিস্টিক মিসাইলের এই হামলা প্রমাণ করে যে, ইরান সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নয়। যদি এই মিসাইলগুলো ইসরায়েলের জনবহুল এলাকায় আঘাত হানে, তবে ইসরায়েল আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে, যা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাবে।





















