ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিনা উস্কানিতে সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। শনিবার রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে। এই রুশ কূটনীতিক হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, হামলাকারী কারা এখন সেটি স্পষ্ট হয়ে গেছে। খবর আনাদুলু নিউজ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক ফোনালাপে ল্যাভরভ বলেন, ইরানের ওপর এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের নীতি ও নিয়মাবলীর লঙ্ঘন। এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ওপর যে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে, তা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
স্কুলে গোলা ফেললো ইসরাইল, ঝরলো ৪৩ ছাত্রীর প্রাণস্কুলে গোলা ফেললো ইসরাইল, ঝরলো ৪৩ ছাত্রীর প্রাণ
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং স্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ সব ক্ষেত্রে রাশিয়া সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। ল্যাভরভ দ্রুত ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানে ফেরার ওপর জোর দেন।
বিবৃতি অনুযায়ী, আরাঘচি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরানি নেতৃত্বের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, ইরান জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠক ডাকার পরিকল্পনা করছে।
শনিবার ভোরে ইসরাইল ‘লায়ন্স রোর’ (সিংহের গর্জন) ছদ্মনামে ইরানের ওপর এই হামলা শুরু করে এবং পুরো ইসরাইলজুড়ে বিশেষ ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরানি শাসনব্যবস্থা থেকে আসা আসন্ন হুমকি নির্মূল করে মার্কিন জনগণকে রক্ষা করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।
পরবর্তীতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরান থেকে আসা অস্তিত্ব রক্ষার হুমকি দূর করতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ অভিযান শুরু করেছে।
এমন এক সময়ে এই হামলা চালানো হলো যখন ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল। গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় এই আলোচনার নতুন একটি পর্ব শেষ হয়েছে। এর আগে গত জুনে ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল।






















