মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)। তাদের দাবি অনুযায়ী, বাহরাইন, কাতার এবং কুয়েতের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে চালানো ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৬০ জন মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা-র বরাতে জানা গেছে, আইআরজিসি তাদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান তুলে ধরেছে। তাদের মতে, গত কয়েক দিনে চালানো ‘অপারেশন ডেসিসিভ রেসপন্স’-এর লক্ষ্যবস্তুগুলো ছিল অত্যন্ত নিখুঁত এবং সেখানে মার্কিন সেনাদের বড় ধরনের জমায়েত ছিল। ৫৬০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকশ সৈন্য গুরুতর আহত হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
এখন পর্যন্ত মার্কিন পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নিহতের এই বিশাল সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। সাধারণত এ ধরনের বড় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসন তথ্য যাচাই-বাছাই করে ধাপে ধাপে প্রকাশ করে। তবে মার্কিন সূত্রগুলো স্বীকার করেছে যে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Patriot/THAAD) ভেদ করে বেশ কিছু ইরানি মিসাইল সরাসরি ঘাঁটির ব্যারাকে আঘাত হেনেছে।
বাহরাইন: ৫ম নৌবহরের সদর দপ্তরের কাছে অবস্থিত সামরিক ব্যারাক।
কাতার: আল-উদাইদ বিমান ঘাঁটি, যা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বৃহত্তম সামরিক কেন্দ্র।
কুয়েত ও আরব আমিরাত: মার্কিন লজিস্টিক এবং এয়ার সাপোর্ট সেন্টারসমূহ।
৫৬০ জন সৈন্য নিহতের এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বা ট্রাম্প প্রশাসন (২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে) ইরানের বিরুদ্ধে ‘ফুল স্কেল ওয়ার’ বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, ইরান তাদের ‘ফাত্তাহ’ এবং ‘খুররামশাহর’ মিসাইল ব্যবহার করে এই বিধ্বংসী ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে।
যুগান্তর বিশ্লেষণ: আইআরজিসি-র এই দাবি অনেক সময় মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের (Psychological Warfare) অংশ হতে পারে। তবে আল জাজিরা-র মতো নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যমে এই খবর আসা নির্দেশ করে যে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সত্যিই ভয়াবহ। আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা কি না।




















