যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। চলমান সংঘাতের পাল্টা জবাবে ইরান দেশীয়ভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিস্তৃত মজুদ ব্যবহার শুরু করেছে। মার্কিন-ইসরায়েল হামলার পর, ইরানের বাহিনী উচ্চ নির্ভুলতা ও দীর্ঘ পাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করছে, যা মার্কিন প্যাট্রিয়ট এবং ইসরায়েলের আয়রন ডোম ও অ্যারো মতো বিমান প্রতিরক্ষা চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
নিচে ইরানের সংগ্রহে থাকা অস্ত্রের নামগুলো তুলে ধরা হলো, যা তারা ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।
ইরানের প্রতিশোধমূলক প্রচেষ্টা মূলত স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র (এসআরবিএম) এবং মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এমআরবিএম) ব্যবহার করে। এই অস্ত্রগুলো দ্রুত আঘাত হানতে সক্ষম।
স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র : ফাতেহ-১১০, জোলফাঘর ও কিয়াম-১ ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত প্রতিক্রিয়া আক্রমণের জন্য ব্যবহার করা হয়।
মাঝারি-পাল্লার ক্ষমতা : গদর, এমাদ ও খোরমশাহ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়।
খোরমশাহ-২ ২ হাজার কিমি পাল্লার সঙ্গে ১ হাজার ৫০০ কেজি ওয়ারহেড বহন করতে পারে। ফাত্তাহ সিরিজের নতুন মডেল ‘মারভ’ থাকে, যা শেষের দিকে পথ পরিবর্তন করতে সক্ষম।
এই মাঝারি-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন স্থাপনাগুলিকে স্ট্রাইক জোনে রাখে।
স্যাচুরেশন কৌশল : ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন
ইরান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন মোতায়েন করে।
ক্রুজ মিসাইল : পাভেহ, সৌমার ও হোভেজেহ ক্ষেপণাস্ত্র কম উচ্চতায় উড়ে, ভূমির আকৃতি অনুসরণ করে এবং রাডার এড়ায়।
যুদ্ধাস্ত্র বহনকারী ড্রোন : শাহেদ ড্রোন ২ হাজার ৫০০ কিমি পাল্লা এবং ৫০ কেজি ওয়ারহেড বহন করতে পারে। বড় গোষ্ঠীতে উৎক্ষেপণ করলে পয়েন্ট-প্রতিরক্ষা অতিক্রম করা যায়।
ইরানের সামরিক কৌশল ভূগোল দ্বারা নির্ধারিত। ‘ক্ষেপণাস্ত্র শহর’ নামে বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ক রয়েছে। এখানে উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম সংরক্ষণ ও লুকানো হয়।
ড্রোন, ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র একীভূত করে, ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র বাহিনীর জন্য অপারেশনাল খরচ সর্বাধিক করতে চায় এবং সংঘর্ষকে টেকসই ক্ষয়ক্ষতির অভিযানে রূপান্তরিত করে।




















