ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আমেরিকার অর্থনীতির ওপর এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন অর্থনীতির প্রায় ২১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ কেন্ট স্মেটার্সের মতে, এই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ সামরিক খরচই হতে পারে প্রায় ৬৫ থেকে ৯৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতি এবং নতুন করে গোলাবারুদ তৈরির খরচ। সোমবার কুয়েতে একটি ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা ভুলবশত নিজেদের গুলিতে আমেরিকার তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, যা মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য একটি বড় আর্থিক ধাক্কা।
কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়, সেখানে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার কারণে মার্কিন অর্থনীতির আরও ১১৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার। এই অভিযানে বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান, এফ-২২, এফ-৩৫ এবং এফ-১৬ এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধুমাত্র বি-২ বোমারু বিমান মোতায়েন এবং পরিচালনার খরচই দাঁড়িয়েছে ৩০.২ মিলিয়ন ডলারে।
আমেরিকার অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে এই যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের ওপর এই হামলার সমর্থন করছেন। অর্থাৎ, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, সাধারণ মানুষের সমর্থন তত দ্রুত কমছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধ চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে আভাস দিলেও, স্থলসেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। যদি পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং স্থলযুদ্ধ শুরু হয়, তবে মার্কিন করদাতাদের ওপর ব্যয়ের বোঝা আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




















