ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘এপস্টিন ফাইল’ (Epstein files) দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে নেতানিয়াহু ইরানে হামলা করিয়েছেন—এই দাবিটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি আলোচিত কনস্পিরেসি থিওরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। তবে এই দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক বা অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আপনার কৌতূহল মেটাতে বর্তমান পরিস্থিতি ও এই তত্ত্বের পেছনের কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দাবির উৎস ও প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ নতুন নথি প্রকাশ করে। এই ফাইলগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। ঠিক একই সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয় এবং ট্রাম্প প্রশাসন সেই যুদ্ধে সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষ নেয়। এই দুটি ঘটনার সময়কাল এক হওয়ায় অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যম (যেমন: NewsClick, Middle East Monitor) ধারণা করছে যে, ট্রাম্প হয়তো কোনো চাপে পড়ে এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন।
২. কেন এই তত্ত্বটি ছড়াচ্ছে?
এই গুঞ্জনের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:
এপস্টিন ও মোসাদ সংযোগ: একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে, জেফরি এপস্টিন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’-এর হয়ে কাজ করতেন এবং বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আপত্তিকর তথ্য সংগ্রহ করতেন। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু এফবিআই (FBI) নথিতেও এপস্টিনের সাথে সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠতার কথা বলা হয়েছে।
ট্রাম্পের ওপর চাপ: গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এনপিআর (NPR)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচার বিভাগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিছু স্পর্শকাতর এপস্টিন ফাইল জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের মতে, এই গোপন ফাইলগুলোই নেতানিয়াহু অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।
নীতি পরিবর্তন: অনেক বিশ্লেষক অবাক হয়েছেন যে, যে ট্রাম্প সবসময় ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এবং ‘নো মোর ওয়ার’ স্লোগান দিতেন, তিনি কেন হঠাৎ ইরানের সাথে এত বড় যুদ্ধে জড়ালেন। প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সালের মতো ব্যক্তিত্বরাও মন্তব্য করেছেন যে, নেতানিয়াহু কোনোভাবে ট্রাম্পকে এই যুদ্ধে রাজি করিয়েছেন।
৩. প্রকৃত বাস্তবতা
নেতানিয়াহুর প্রত্যাখ্যান: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এপস্টিন ইসরায়েলের কোনো এজেন্ট ছিলেন না এবং এসব দাবি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এহুদ বারাককে হেনস্তা করার জন্য ছড়ানো হচ্ছে।
প্রমাণহীনতা: এপস্টিন ফাইলগুলোতে ট্রাম্পের নাম থাকা মানেই তিনি ব্ল্যাকমেইল হচ্ছেন—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত নেই। এটি মূলত একটি ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ যা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।





















