গত বুধবার (১৮ জুন, ২০২৫) উত্তরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি)-এর কনফারেন্স হলরুমে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) আয়োজিত “জুলাই ঘোষণাপত্র: শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি’র শিক্ষার্থীদের ভাবনা” শীর্ষক এই সভাটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব ছিল। এতে অংশীজনরা জুলাই আন্দোলনের প্রত্যাশা, প্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ-এর সঞ্চালনায় এবং সাজ্জাদ সাব্বিরের ব্যবস্থাপনায় বিকেল ৫টায় সভাটি শুরু হয়। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী বৃষ্টিবিঘ্নিত দিন উপেক্ষা করেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান এবং ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর দাবি তুলে ধরেন।
প্রধান আলোচকদের বক্তব্য: ঐক্যের ডাক ও দায়বদ্ধতার বার্তা
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক থট (বিআইআইটি)-এর মহাপরিচালক ড. এম আবদুল আজিজ। তিনি জুলাই আন্দোলনের সাথে যুক্ত সকলকে “ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা” গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সাথে যারা যুক্ত, আমি তাদের অনুরোধ করবো প্রত্যেককে এই স্পিরিটটা জিইয়ে রাখার জন্যে এবং এটার ফসল ঘরে তোলার জন্যে সবার আগে ঐক্যবদ্ধ ইফোর্ট নিতে হবে। এবং অবশ্যই সেটা ঐক্যবদ্ধ ইফোর্ট হতে হবে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় করে “গ্যাপগুলো দূর করতে হবে। গ্যাপগুলোর মধ্যে ব্রিজ তৈরি না করা গেলে জুলাই কখনো সফল হবে না।” ড. আজিজ আরও বলেন, সকলকে ‘ক্যাটালিস্টের’ ভূমিকা নিয়ে শুরুতে শহীদ ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এরপর আহতদের কর্মসংস্থান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং সবশেষে সংস্কারের বিষয়ে একমত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।
শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি এর সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কো-অর্ডিনেটর খলীলুল্লাহ মুহাম্মদ বায়েজীদ তার বক্তব্যে আন্দোলনের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আন্দোলনে আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা যদি আমরা লিপিবদ্ধ না করি, তাহলে আল্টিমেটলি যা হবে ১৯৭১ সালে ১০ বছর পর জন্মগ্রহণ করেও মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট পেয়ে যাবার মত একটা বিষয় হয়ে যেতে পারে। আমরা নিশ্চয়ই সেটা চাই না।” তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং দেশ গঠনে তাদের ভূমিকা নিশ্চিত করার জন্য নেতৃত্বদানকারীদের দায়বদ্ধতার উপর জোর দেন।
আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং প্রচার ও জনসংযোগ কমিটির যুগ্ম প্রধান সাজ্জাদ সাব্বির জুলাই আন্দোলনের ‘ব্র্যান্ডিং’-এর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের স্পিরিটকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য জুলাইয়ের ব্র্যান্ডিং করা জরুরি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জুলাইয়ের স্পিরিট ছড়িয়ে দেয়ার জন্য পাঠ্যপুস্তকে জুলাইয়ের ইতিহাস রাখতে হবে। আমরা চাই আজ থেকে ২০ বছর পর যেন ১৮ বছরের কোনো তরুণ যেন জুলাই সম্পর্কে জানে, জুলাইকে ধারণ করে। জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে আমরা সেটার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।”
অন্যান্য বক্তা ও জুলাই ঘোষণাপত্রের দাবি
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি এর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদুর রহমান, আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক বিষয়ক কমিটির প্রধান মিনহাজুর রহমান রেজবী, আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং জুলাই স্মৃতি বিষয়ক কমিটি প্রধান আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া, আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, পুসাব এর কেন্দ্রীয় সদস্য মো: শাহ আলম এবং জুলাই আহত যোদ্ধা ও ইউনিভার্সিটি অ্যাক্টিভিস্ট নূরা জেরিন।
সকল বক্তাই তাদের আলোচনায় ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের দাবি জানান। আলোচনা সভায় আপ বাংলাদেশের স্থানীয় সংগঠকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল্লাহ আল জিহাদ, সাদমান আলম, নাকিবুর রহমান, আবু নোমান, অহিদ খাঁন, এস এম রাকিবুল আলম, মাহি, রেজানুর, সিয়াম সাদিক সহ প্রমুখ।
এই আলোচনা সভাটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরল।




















