নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আমিনুল ইসলাম তাঁর সমবয়সীর কাছ থেকে ২৩ হাজার টাকায় কেনা স্যামসাং সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। কিছুদিন পরে তিনি পল্লবী থানার পুলিশ থেকে কল পান এবং মোবাইল ফোনটি নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়। পরে দেখা যায়, ফোনটি চোরাই এবং মূল মালিক পল্লবী থানায় মামলা করেছেন। ফোনটির বাজারমূল্য ছিল ৬০ হাজার টাকা। পুলিশ ফোনটি উদ্ধার করে আমিনুলের কাছে ফেরত দেন।
একইভাবে, রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার সোনিয়া আক্তারের রিয়েলমি ফোনটি গণপরিবহনে ছিনতাই হয়। পরে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ ফোনটি উদ্ধার করে এবং মূল মালিকের কাছে ফেরত দেয়। এই প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনগুলো প্রায়ই অনলাইনে বিক্রির জন্য রাখা হয়। কেউ ফোন কিনলে পুলিশ সেই ফোন উদ্ধার করতে পারে।
মোবাইল ফোনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকায় ভুক্তভোগীরা প্রায়শই দিশাহারা হয়ে পড়েন। অনেক ফোনই ফিরে পাওয়া যায় না। সাধারণত চক্রের সদস্যরা ফোন বন্ধ করে দেন, সিম ফেলে দেন, ফোন ফ্ল্যাশ করেন এবং দামি ফোনের ক্ষেত্রে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে দেন। এরপর ফোনগুলো বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়, কখনও দেশের বাইরে পাঠানো হয়।
ডিএমপির এক কর্মকর্তা জানান, “ছিনতাই, চুরি বা হারানো মোবাইল ফোনের ৩০ শতাংশই আমরা উদ্ধার করতে পারি, বাকি ৭০ শতাংশ চলে যায়। আইফোনের ক্ষেত্রে মাত্র ১০ শতাংশই উদ্ধারযোগ্য।” তিনি আরও বলেন, ব্যবহারকারীরা সচেতন হলে মোবাইল ফোন হারানো অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন থানায় অসংখ্য মোবাইল ফোন চুরি বা হারানোর ঘটনা ঘটেছে। যেমন ২৫ আগস্ট মোহাম্মদপুরে আবুল হাসানের ইনফিনিক্স ফোন, ১৭ আগস্ট মতিঝিল থেকে বিলকিস আরা বানুর স্যামসাং গ্যালাক্সি, ১৬ আগস্ট হাজারীবাগ থেকে আনোয়ার হোসেনের স্যামসাং ফোন, ২৫ মে ভাটারা থেকে ফজলে রাব্বির ওয়ান প্লাস।
ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “অসাবধানতা ও অসচেতনতার কারণে মোবাইল হারানো বা চুরি হওয়া সাধারণ। আমরা সবসময় ভুক্তভোগীদের জিডি ও মামলা করার পরামর্শ দিই। মোবাইল ফোন উদ্ধার ও চুরি প্রতিরোধে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ব্যবহারকারীর সচেতনতা এই সমস্যা কমাতে সাহায্য করবে।”
প্রতিদিন দেশে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মোবাইল ফোন চুরি বা ছিনতাই হয়, যার মধ্যে মাত্র সামান্য অংশই উদ্ধার করা সম্ভব। তাই ফোন ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।





















