ভারতের আসাম রাজ্যের এক দৃষ্টিহীন কিশোর বিমানে সহযাত্রীর হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোর হাফেজে কোরআন। উন্নত চিকিৎসার জন্য মুম্বাই থেকে শিলচরে ফেরার সময় কলকাতা থেকে ছেড়ে আসা ইন্ডিগোর 6E 136 ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা। ইন্ডিগো এক টুইটে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার বর্ণনা
ভুক্তভোগী কিশোরের নাম হুসাইন আহমদ। তিনি ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার লাটিমারা গ্রামের বাসিন্দা। টাইফয়েড জটিলতায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার। উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি মুম্বাই গিয়েছিলেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিমানে ওঠার পর হুসাইন নিজে নিজে নিজের সিট খুঁজছিলেন। ভুলবশত তাঁর হাত পাশে বসা এক যাত্রীর মুখে লেগে যায়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হুসাইনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ।
ফ্লাইটে থাকা এক মুসলিম সহযাত্রী এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। সেখানে বিমানকর্মীদের নির্লিপ্ত ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
বিমান সংস্থার বক্তব্য
ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে টুইটারে জানানো হয়েছে, “আমরা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রাথমিক তদন্তে যেটুকু জানা গেছে, তা যাচাই করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তবে অভিযুক্ত যাত্রীকে শনাক্ত বা আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংস্থাটি বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
পরিবারের অভিযোগ ও উদ্বেগ
হুসাইনের পরিবারের দাবি, শিলচর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরও দীর্ঘ সময় তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর গভীর রাতে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। কীভাবে এবং কোথায় এত সময় তাকে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর লাটিমারা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





















