ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে এক নারীর আত্মত্যাগ ও বীরত্ব নিয়ে ফেসবুকে লেখা একটি পোস্ট এখন ব্যাপক আলোচনায়। লেখক মোহাইমিন পাটোয়ারীর বর্ণনায় উঠে এসেছে, কিভাবে ওই নারী মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও এক আহত যুবককে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
পোস্টে বলা হয়েছে— সেদিন বিকেলে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওই নারী দেখেন সাদা শার্ট পরা এক যুবক রাস্তায় পড়ে আছে। জামা ইতিমধ্যেই রক্তে ভিজে লাল। তিনি বুঝতে পারেন, দ্রুত চিকিৎসা না পেলে যুবক মারা যাবে। সাথে সাথে নিজের কাঁধে ঝোলানো টিফিন বক্স ফেলে যুবককে তুলতে যান।
কিন্তু এ সময় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একের পর এক গুলি তার চোখ, বুক ও নিম্নাঙ্গে বিদ্ধ হয়। প্রচণ্ড ব্যথা আর রক্তক্ষরণের মাঝেও তিনি যুবকটিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর অচেতন হয়ে পড়েন।
হুশ ফেরার পর তিনি জানতে পারেন, তার একটি চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। বুকের গুলির আঘাত এতটাই মারাত্মক যে নিজের সন্তানকেও আর বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন না। এছাড়া নিম্নাঙ্গে আঘাত লাগায় স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন নিয়েও গুরুতর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এক বছরের অন্ধকারমোহাইমিন পাটোয়ারী পোস্টে লেখেন— “এক বছর কেটে গেছে। আমরা অনেকে কর্মে ফিরে স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এই নারী ও তার পরিবারের জীবন এক ভয়াবহ অন্ধকারে ডুবে আছে। তাদের জন্য জুলাই মানে শুধু যন্ত্রণা, রক্ত আর কান্নার ইতিহাস।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন— এই নারী ও তার সন্তানদের অবস্থা এখন কেমন? পরিবার টিকে আছে তো? সমাজ কি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে? নাকি তাদের দুর্ভোগের মাঝেই অন্য কারও কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে উঠেছে?






















