পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছে শত শত তরুণ। ‘অ্যাভিয়েটর’ নামের একটি আকর্ষণীয় কিন্তু সর্বনাশা গেমে আসক্ত হয়ে তারা হারাচ্ছে নিজেদের উপার্জন, পরিবারের সঞ্চয়, এমনকি ঋণের জালেও জড়িয়ে পড়ছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে টাকা কয়েকগুণ করার লোভ দেখিয়ে এই ডিজিটাল জুয়া এলাকাজুড়ে তরুণ প্রজন্মের জন্য এক নীরব মহামারী হয়ে উঠেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার আড্ডায় তরুণদের মোবাইলের স্ক্রিনে চলছে ‘অ্যাভিয়েটর’ গেমের উড়োজাহাজ উড্ডয়ন। একসময় যারা পড়াশোনা, খেলাধুলা বা কাজের প্রতি মনোযোগী ছিল, তারাই এখন দিনরাত এই জুয়ায় মত্ত। খেলাটি মূলত একটি বেটিং গেম, যেখানে একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়নের সাথে সাথে টাকার পরিমাণ বাড়তে থাকে। উড়োজাহাজটি উড়ে যাওয়ার আগে বাজি তুলে নিতে পারলেই জেতা সম্ভব, কিন্তু মুহূর্তের দেরিতেই হারাতে হয় পুরো টাকা। এই ক্ষণিকের উত্তেজনা আর দ্রুত টাকা জেতার লোভই তরুণদের সর্বস্বান্ত করছে।
স্থানীয়রা জানান, ঈশ্বরদীর প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এখন এই গেমে নিঃস্ব হওয়া যুবকের গল্প শোনা যায়। বেকারত্বের সুযোগে অনেকেই এই সহজ পথে অর্থ উপার্জনের আশায় আকৃষ্ট হচ্ছে, কিন্তু দিন শেষে ফলাফল হচ্ছে ভয়াবহ। সর্বস্ব হারিয়ে অনেক তরুণই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে, পরিবারে বাড়ছে অশান্তি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেটা দিনরাত এই গেমে পড়ে থাকে। জমানো টাকা তো গেছেই, এখন এদিক-সেদিক থেকে ধারদেনা করছে। এই গেম আমাদের ছেলেদের জীবনটা ধ্বংস করে দিচ্ছে।”
এলাকার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী অভিভাবকরা এই ভয়াবহ অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, এখনই যদি এই ডিজিটাল জুয়ার লাগাম টেনে ধরা না যায়, তাহলে ঈশ্বরদীর তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে।





















