অনিরাপদ খাদ্যের ভয়াবহতা নিয়ে দেশব্যাপী যিনি সোচ্চার, সেই মাহবুব কবির মিলন এবার এক চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি খোলাখুলিভাবেই স্বীকার করেছেন, অনিরাপদ খাদ্যের যে ভয়াবহ চিত্র তিনি জনসমক্ষে তুলে ধরেন, তা প্রকৃত সত্যের মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ। বাকি ৮০ শতাংশ ভয়াবহ তথ্য তিনি নিজের ভেতরেই রেখে দেন।
এক ফেসবুক পোস্টে মাহবুব কবির মিলন তার এই বিস্ফোরক দাবিতে বলেন, “সেই পুরোটা (৮০%) নিয়েই আমার দিন যায়, রাত কাটে। টেবিলে বৌ-বাচ্চা সেই আকাশ পরিমাণ খাদ্য বিষ খায় আমার সামনেই।”
যে ভয়াবহ সত্য এখনো বলা হয়নি
কেন তিনি সবটা বলেন না, তার এক গা শিউরে ওঠা তালিকাও তিনি তুলে ধরেছেন। মাহবুব কবির মিলন জানিয়েছেন, যে তথ্যগুলো তিনি কখনোই জনগণকে বলেননি:
- নদীর মাছে বিষ: “আমি কিন্তু আপনাদের কখনোই বলিনি নদীর মাছে আন্তর্জাতিক সহনীয় মাত্রার চেয়ে প্রায় এক হাজার গুন বেশি কীটনাশক পাওয়া গেছে।”
- নদীর পানি: “আমি কিন্তু আপনাদের কখনোই বলিনি নদীর পানি পুরোটাই বিষে রুপান্তরিত হয়ে গেছে।”
- পুকুরের মাছ: “আমি এও বলিনি পুকুরের মাছেও আছে বিষ আর বিষ।”
- মুরগির বিষ্ঠা: তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সারা দেশের হাজার হাজার মুরগির খামারের প্রতিদিন হাজার হাজার মেট্রিক টন কাঁচা বিষ্ঠা যাচ্ছে কোথায়? যে গু-তে আছে মারাত্মক হেভিমেটাল এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া।”
- নিষিদ্ধ MBM: তিনি আরও জানান, “যে প্রাণী ও মৎস্য খাদ্য MBM (মিট এন্ড বোন মিল) আমরা কয়েকবছর আগে আমদানি নিষিদ্ধ করেছিলাম এনথ্রাক্সসহ মারাত্মক ক্ষতিকর রোগজীবাণু এবং শুয়োরের উপজাত থাকে বলে… জগতের সব দেশে এটা নিষিদ্ধ। অথচ সেটা আবার আমদানির অনুমতি দেয়ার চেষ্টা চলছে।”
খাদ্য বিষের মুখে সবাই সমান
এইসব ভয়াবহ তথ্য গোপন রাখার কথা জানিয়ে তিনি তার মূল বক্তব্যটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি তো কিছুই বলিনি আপনাদের।”
তবে তিনি একটি কথাই বলার চেষ্টা করেছেন যে, এই খাদ্য বিষের হাত থেকে কারো নিস্তার নেই। মাহবুব কবির মিলন বলেন, “আপনি রাষ্ট্রপতি হন আর প্রধান উপদেষ্টা কিংবা প্রধানমন্ত্রী, বা উপদেষ্টা অথবা মন্ত্রী, কিংবা সিনিয়র সচিব, সচিব বা জুনিয়র আমলা, কিংবা ডিজি, চেয়ারম্যান অথবা ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী বা ব্যবসায়ী, বা কামলা… আপনি, আপনার বৌ বাচ্চা, প্রতিটি খাবারে একই সাথে ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম, থোরিয়াম, এন্টিমনি, হেভিমেটাল, কীটনাশক, PFAS, এবং অন্যান্য কেমিক্যাল খাচ্ছেন।”
তার এই সরাসরি ও আতঙ্কজাগানিয়া পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রকৃত চিত্র নিয়ে জনমনে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।






















