জুলাই আগস্টের সংঘটিত হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘের প্রতিবেদন, টেলিফোনি অডিও ভিডিও এবং অন্যান্য এভিডেন্সের ভিত্তিতে পরিকল্পিত ও ব্যাপক ভাবে জড়িত থাকার বিষয়ে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রমাণ পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তার বিরুদ্ধে পাঁটি মামলায় আনীত তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একটিতে যাবজ্জিবন এবং অপর তিনটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। একই দণ্ড দেয়া হয়েছে তার সহযোগী এবং এই প্রক্রিয়ায় অন্যতম শরীক হিসেবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের। এছাড়াও রাজসাক্ষি হিসেবে আদলাতে ক্ষমা প্রার্থনা করায় ৫ বছরের জন্য কারবন্দি থাকবেন ওই সময়ের আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আদেশে দুই দণ্ডিতের স্খাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আহত পরিবারের সহায়তার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে আদলত কোনো মন্তব্য করেনি।
১৭ নভেম্বর, সোমবারট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালতে রায় পাঠের সময় টেলিফোনি আদেশে নিজ দলীয় কর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশের প্রমাণ উপস্থাপনের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পড়া রায়ে সেসব কথপোকথনের পেনড্রাইভ ও সিডি বিশ্লেষণ করে আদালত সেগুলো এআই দিয়ে তৈরি নয় বলে নিশ্চিত হওয়ার কথাও জানানো হয়। আলামত হিসেবে উপস্থাপন করা হয় ভারতীয় পত্রিকা আনন্দবাজার এবং ইউটিউব চ্যানেল দেশসময়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি ফুটেজকেও।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রথম মামলা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। ওইদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।






















