স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে অনেকেই সারাক্ষণ ওয়াই-ফাই চালু রাখেন। বাড়িতে থাকুন বা বাইরে, ফোনের এই সংযোগ বন্ধ করার কথা আলাদা করে মনে থাকে না। কিন্তু অপরিচিত জায়গায় সব সময় ওয়াই-ফাই চালু রাখা এবং অজানা নেটওয়ার্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার অভ্যাস নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, ক্যাফে, শপিং মল, রেলস্টেশন কিংবা বিমানবন্দরের মতো জায়গায় বিনামূল্যের ইন্টারনেট ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকা জরুরি।
ফোনের ওয়াই-ফাই চালু থাকলেই যে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে যাবে, তা নয়। তবে অজানা নেটওয়ার্কে অসাবধানতাবশত সংযোগ তৈরি হলে প্রতারকদের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর সময় ওয়াই-ফাই ব্যবহারের অভ্যাসে কয়েকটি পরিবর্তন আনা ভালো।
ওয়াই-ফাই চালু থাকলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে?
স্মার্টফোনের ওয়াই-ফাই চালু থাকলে সেটি আশপাশের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে পারে। ফোনের সেটিংস অনুযায়ী, আগে থেকে সংরক্ষিত কোনো নেটওয়ার্কের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগও তৈরি হতে পারে। এই সুবিধা সময় বাঁচালেও অপরিচিত জায়গায় সব নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকা সম্ভব নয়।
সাইবার অপরাধীরা কখনো পরিচিত কোনো ক্যাফে, হোটেল বা বিমানবন্দরের ওয়াই-ফাইয়ের মতো নাম ব্যবহার করে ভুয়া হটস্পট তৈরি করতে পারে। নাম দেখে সেটিকে আসল নেটওয়ার্ক ভেবে ব্যবহারকারী সংযোগ করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই শুধু নেটওয়ার্কের নাম পরিচিত মনে হলেই সেটিকে নিরাপদ ধরে নেওয়া উচিত নয়।
পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে কীভাবে তথ্যের ঝুঁকি বাড়ে?
পাবলিক ওয়াই-ফাই সব সময় অনিরাপদ নয়। তবে নেটওয়ার্কটি যথাযথভাবে সুরক্ষিত না হলে তথ্য আদানপ্রদানের সময় নজরদারি বা হস্তক্ষেপের ঝুঁকি থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সাইবার অপরাধীরা ‘ম্যান-ইন-দ্য-মিডল’ ধরনের হামলা চালিয়ে ব্যবহারকারী ও অনলাইন পরিষেবার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।
যদিও আধুনিক ওয়েবসাইটে HTTPS এনক্রিপশন এবং অ্যাপের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা অনেক তথ্য সুরক্ষিত রাখে, তবু সব ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। ভুয়ো লগইন পেজের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়া বা ব্যবহারকারীকে প্রতারণামূলক ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই অপরিচিত ওয়াই-ফাইতে যুক্ত হয়ে ব্যাংকিং , আর্থিক লেনদেন বা সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
ব্যাটারির উপরও কি প্রভাব পড়ে?
ওয়াই-ফাই চালু থাকলে ফোন আশপাশের নেটওয়ার্ক খুঁজতে পারে। এতে কিছুটা ব্যাটারি খরচ হতে পারে, যদিও আধুনিক স্মার্টফোনে এই খরচ সাধারণত সীমিত এবং ফোনের মডেল ও ব্যবহারের ধরনের উপর নির্ভর করে। ফলে ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখার প্রধান কারণ শুধু ব্যাটারি সাশ্রয় নয়, বরং অপ্রয়োজনীয় সংযোগ এড়িয়ে চলা এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি কমানো।
বাইরে বেরোলে ফোনের ওয়াই-ফাই নিরাপদ রাখবেন কীভাবে?
প্রয়োজন না থাকলে ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখুন। বাড়ি বা অফিসের পরিচিত নেটওয়ার্কের বাইরে থাকলে ওয়াই-ফাই বন্ধ করে রাখতে পারেন। এতে অনিচ্ছাকৃত সংযোগের সম্ভাবনা কমবে।
ফোনে আগে থেকে সংরক্ষিত নেটওয়ার্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুবিধা চালু থাকলে সেটি পর্যালোচনা করুন। অপ্রয়োজনীয় নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বন্ধ রাখুন।
পুরোনো নেটওয়ার্ক মুছে ফেলুন। দীর্ঘদিন ব্যবহার করেন না, এমন ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সংরক্ষিত তথ্য ফোন থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। এতে ভুল করে পুরনো বা অনুপযুক্ত নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।
নেটওয়ার্কের নাম যাচাই করুন। ক্যাফে, হোটেল বা বিমানবন্দরের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার আগে কর্মীদের কাছ থেকে সঠিক নেটওয়ার্কের নাম জেনে নিন। একই রকম নাম দেখেই সংযোগ করবেন না।
গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় সতর্ক থাকুন। অপরিচিত নেটওয়ার্কে ব্যাঙ্কিং, আর্থিক লেনদেন বা সংবেদনশীল অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের পরিবর্তে সম্ভব হলে নিজের মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন। প্রয়োজন হলে নির্ভরযোগ্য ভিপিএন ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ভিপিএন ব্যবহার করলেই সব ধরনের ঝুঁকি দূর হয় না।
ফোন ও অ্যাপ আপডেট রাখুন। অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপের নিরাপত্তা আপডেট ইনস্টল করুন। কোনো সন্দেহজনক পেজে পাসওয়ার্ড বা ওটিপি দেবেন না।
বাড়িতে ওয়াই-ফাইয়ের স্পিড কত, কীভাবে মাপবেন?
ফোনের ভিপিএন সারাক্ষণ চালু রাখলেই ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে অজানা নেটওয়ার্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন না থাকলে ভিপিএন বন্ধ রাখা ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি সহজ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।






















