বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বাজারের শীর্ষস্থান ধরে রাখা দক্ষিণ কোরিয়ান জায়ান্ট স্যামসাংকে হটিয়ে এবার সিংহাসন দখল করতে যাচ্ছে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালটি হতে যাচ্ছে অ্যাপলের জন্য এক স্মরণীয় বছর।
একই সঙ্গে চলতি বছর শেষে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বিক্রি ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন বা ১২৫ কোটি ইউনিটে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি)।
বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ এবং আইডিসির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে স্মার্টফোন বিক্রিতে ১৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্যামসাংকে ছাড়িয়ে যাবে অ্যাপল।
-
অ্যাপল: বছর শেষে প্রায় ২৪ কোটি ৩০ লাখ থেকে ২৪ কোটি ৭০ লাখ আইফোন বিক্রির পূর্বাভাস রয়েছে।
-
স্যামসাং: অন্যদিকে স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন বিক্রি দাঁড়াবে ২৩ কোটি ৫০ লাখ ইউনিটে।
আইডিসির জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল বলেন, “২০২৫ সাল অ্যাপলের জন্য একটি স্মরণীয় বছর হতে যাচ্ছে। কুপারটিনোভিত্তিক কোম্পানিটি রেকর্ড আইফোন বিক্রির পথে রয়েছে।”
অ্যাপলের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে গত সেপ্টেম্বরে বাজারে আসা ‘আইফোন ১৭ সিরিজ’। আইফোন ১৭, ১৭ প্রো, ১৭ প্রো ম্যাক্স এবং নতুন সংযোজন ‘আইফোন এয়ার’—এই চারটি মডেল গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আইডিসি জানায়, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বিশ্বের বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার চীনে ২০ শতাংশের বেশি শেয়ার বা হিস্যা নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল অ্যাপল। এর ফলে অ্যাপলের বার্ষিক আয় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আগের পূর্বাভাসের (৩.৯ শতাংশ) প্রায় দ্বিগুণ।
আইডিসির ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড কোয়ার্টারলি মোবাইল ফোন ট্র্যাকার’-এর তথ্যমতে, বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের প্রবৃদ্ধিতে অ্যাপলের পাশাপাশি চীনের হুয়াওয়ে ও শাওমির মতো ব্র্যান্ডগুলোও বড় ভূমিকা রাখছে।
অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের পর গত প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সবচেয়ে বেশি বিক্রি ও বাজার হিস্যা নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে শাওমি। রেডমি নোট ও পোকো সিরিজের জনপ্রিয়তাই শাওমিকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে মোট স্মার্টফোন বিক্রি ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৩২ কোটি ইউনিট ছাড়িয়েছে।
ভবিষ্যৎ শঙ্কা: ২০২৬ সালে কমতে পারে বিক্রি ২০২৫ সালের পূর্বাভাস শক্তিশালী হলেও ২০২৬ সালে স্মার্টফোন বাজার কিছুটা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এর পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে:
১. চিপ সংকট: বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং দাম বাড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে মিড-রেঞ্জের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলোর ওপর।
২. অ্যাপলের কৌশল পরিবর্তন: অ্যাপল তাদের পরবর্তী বেস মডেলটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে উন্মোচন না করে পরের বছরের শুরুতে আনার পরিকল্পনা করছে। ফলে ২০২৬ সালে আইওএস ডিভাইসের বিক্রি ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে।
৩. যন্ত্রাংশ সরবরাহ: অন্যান্য যন্ত্রাংশের সরবরাহ কমে যাওয়াও বাজার সংকোচনের একটি কারণ হতে পারে।
তবে সব শঙ্কা ছাপিয়ে বর্তমানে স্মার্টফোন শিল্প একটি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। নাবিলা পোপাল বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থা এবং শুল্কনীতি জটিলতার মধ্যেও স্মার্টফোন বাজারের এই প্রবৃদ্ধি একটি অসাধারণ অর্জন।”






















