ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অবৈধ মোবাইল ফোন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। ক্লোন, রিফারবিশড (পুরোনো ফোন মেরামত করে নতুনের মতো করা) এবং অবৈধভাবে আনা হ্যান্ডসেট আটকাতে বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং রাজধানীর প্রধান মোবাইল মার্কেটগুলোতে একযোগে ‘বিশেষ অভিযান’ শুরু হচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, দেশকে বিদেশি ইলেকট্রনিক বর্জ্যের ডাম্পিং স্টেশন হওয়া থেকে বাঁচাতে এবং গ্রাহকদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে কাস্টমসের ‘সাঁড়াশি অভিযান’
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।
রেড জোন: ভারত, চীন, দুবাই ও থাইল্যান্ড থেকে আসা ফ্লাইটগুলোকে ‘রেড জোন’ বা বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করা হবে।
রিফারবিশড ফোনের কারসাজি: একটি চক্র বিদেশ থেকে নামমাত্র মূল্যে নষ্ট বা পুরোনো ফোন আনে। এরপর কেসিং (Casing) বদলে সেগুলোকে নতুন বলে বাজারে ছাড়ে। কাস্টমস কর্মকর্তারা এবার আধুনিক স্ক্যানিং মেশিনের মাধ্যমে এসব ‘ই-বর্জ্য’ শনাক্ত করবেন।
মার্কেটে টাস্কফোর্সের হানা শুধু বন্দর নয়, রাজধানীর মোতালেব প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা, গুলিস্তান এবং চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের মতো ‘চোরাই ফোনের হাব’গুলোতেও বিটিআরসি, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে।
উদ্দেশ্য: ১৬ ডিসেম্বরের আগে সিন্ডিকেট যাতে অবৈধ ফোনের মজুদ বাজারে ছড়িয়ে দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
ক্লোন ফোন শনাক্তকরণ: আসল ব্র্যান্ডের লোগো লাগিয়ে বিক্রি হওয়া নকল বা ক্লোন ফোন জব্দ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভ্রমণকারীদের সতর্কবার্তা
অভিযান চলাকালীন বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ফোন আনার ক্ষেত্রে বৈধতা প্রমাণের জন্য ক্রয়ের রসিদ (Purchase Receipt) বা ইনভয়েস সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চোরাচালান চক্র অনেক সময় সাধারণ যাত্রীদের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ব্যাগেজে অবৈধ ফোন ও স্বর্ণ পাচার করে। এমন ফাঁদে না জড়াতে যাত্রীদের সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
সরকারের এই উদ্যোগে বৈধ মোবাইল আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদনকারীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এই অভিযান সফল হলে দেশে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ হবে এবং গ্রাহকরা আসল পণ্য পাবেন।





















