শাওমির বহুদিনের আলোচনায় থাকা ট্রাইফোল্ড স্মার্টফোন নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। কোম্পানিটি শিগগিরই নিজেদের প্রথম ট্রাইফোল্ড ফোন বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফোনটি এরই মধ্যে একটি সার্টিফিকেশন ওয়েবসাইটে দেখা গেছে। ট্রাইফোল্ডটি ‘শাওমি মিক্স ট্রাইফোল্ড’ নামে আসতে পারে বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
শাওমি টাইমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬০৮বিপিএক্স৩৪সি মডেল নম্বরের একটি স্মার্টফোন সম্প্রতি ‘গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন অ্যাসোসিয়েশন (জিএসএমএ)’ সার্টিফিকেশন প্লাটফর্মে দেখা গেছে। তালিকায় ফোনটির কোনো ফিচার বা নকশা উল্লেখ করা না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে এটি শাওমির বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাইফোল্ড ডিভাইসই হতে পারে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ফোনটি ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) উন্মোচন হবে। তবে শাওমি এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
স্যামসাং ২ ডিসেম্বর নিজেদের প্রথম ট্রাইফোল্ড ফোন গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড উন্মোচন করেছে। ডিভাইসটি আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্রির জন্য বাজারে ছাড়া হবে। ফলে স্যামসাং ট্রাইফোল্ড বাজারে প্রথম বড় ব্র্যান্ড হিসেবে নেতৃত্ব দেবে বলে মনে করছেন অনেকে। এর আগেই হুয়াওয়ে মেট এক্সটি আল্টিমেট ডিজাইন বাজারে আসে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে।
স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ডের ভেতরে রয়েছে ১০ ইঞ্চি কিউএক্সজিএ প্লাস ডায়নামিক অ্যামোলেড ২এক্স ডিসপ্লে আর বাইরে ৬ দশমিক ৫ ইঞ্চির ফুল এইচডি কাভার স্ক্রিন। উভয় স্ক্রিনেই রয়েছে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট। ফোনটিতে ব্যবহার হয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট চিপসেট। সঙ্গে আছে ১৬ জিবি র্যাম, সর্বোচ্চ ১ টেরাবাইট স্টোরেজ ও ৫ হাজার ৬০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি।
হুয়াওয়ের মেট এক্সটি আলটিমেট ডিজাইনে ভেতরে রয়েছে ১০ দশমিক ২ ইঞ্চির এলটিপিও ওএলইডি ফোল্ডেবল ডিসপ্লে আর বাইরে আছে ৬ দশমিক ৪ ইঞ্চি ওএলইডি স্ক্রিন। ডিভাইসটি চলে কিরিন ৯০১০ চিপসেটে, সঙ্গে ১৬ জিবি র্যাম ও ১ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ। ব্যাটারি ক্ষমতাও ৫ হাজার ৬০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার।
শাওমি মিক্স ট্রাইফোল্ড বাজারে আনলে এটি হবে কোম্পানির প্রথম মাল্টিফোল্ড ফোন। এর মাধ্যমে স্যামসাং ও হুয়াওয়ের সঙ্গে একই প্রতিযোগিতায় নামবে চীনা জায়ান্টটি, যা ২০২৬ সালে ট্রাইফোল্ড প্রযুক্তির বাজারকে আরো সক্রিয় করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।






















