আইফোন ব্যবহারকারীদের অ্যান্ড্রয়েডে টানতে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতারা নতুন ‘মাইগ্রেশন অ্যাপ’ জোরদারভাবে প্রচার করছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচার চালু করতে হিমশিম খাওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেদের বাজার হিস্যা বাড়ানোর সুযোগ নিচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
চীনে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে অতি প্রত্যাশিত এআই ফিচারগুলো চালু করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার চীনে নিজেদের হিস্যা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে স্থানীয় স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো।
চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় থাকা শীর্ষ পাঁচটি দেশীয় স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক চলতি বছর বিশেষ প্রোগ্রাম চালু করেছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা অ্যাপলের আইওএস অপারেটিং সিস্টেম থেকে ছবি, ভিডিও, কনটাক্টস এবং অন্যান্য ডাটা দ্রুত ও সহজে চীনা ব্র্যান্ডের ডিভাইসে নিতে পারে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে চীনের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা অ্যাপলের পরিকল্পিত এআই ফিচার চালুর অনুমোদন স্থগিত রেখেছে। এর মধ্যেই স্থানীয় ফোন নির্মাতারা নিজেদের প্রচারণা জোরদার করছে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার বিশ্লেষক লুকাস ঝং বলেন, ‘এআই প্রযুক্তি বিকাশে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতারা স্পষ্টভাবেই দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং আরো বেশি উন্মুক্তভাবে কাজ করছে।’
তার মতে, এসব কৌশল এখনই খুব বড় পরিবর্তন আনবে না। কিন্তু ধীরে ধীরে চীনা বাজারে অ্যাপলের ব্যবসা পরিচালনা আরো কঠিন হয়ে উঠবে। ফলে টেক জায়ান্টটির ওপর চাপ বাড়বে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্টের হিসাবে, চীনের স্মার্টফোন বাজারে প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র যে কোনো ব্র্যান্ডই ২০ শতাংশের বেশি বাজার হিস্যা ধরে রাখতে পারছে না। একসময় শীর্ষে থাকা অ্যাপলকে গত বছর টপকে যায় ভিভো। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্মার্টফোন বাজারে ভিভোর বাজার হিস্যা ছিল ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময় অ্যাপল, অনর, অপো, শাওমি ও হুয়াওয়ের হিস্যা ১৩ দশমিক ৬ থেকে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে।
তবে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতারা আইফোন ব্যবহারকারীদের নিজেদের ডিভাইসে আনা কঠিন মনে করছে। কারণ নতুন ডিভাইসে ফাইল ও অ্যাপ স্থানান্তরকে ব্যবহারকারীর জন্য অনেক সহজ করে দিয়েছে অ্যাপল। কিন্তু চীনা নির্মাতারা মনে করছে, এআই ফিচার ও ফোল্ডেবল ফোনের মতো উদ্ভাবনী প্রযুক্তি স্থানীয় পণ্যকে যথেষ্ট আকর্ষণীয় করে তুলেছে, যা অ্যাপল ভক্তদেরও আকৃষ্ট করতে সক্ষম।
উদাহরণস্বরূপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপোর নতুন স্মার্টফোনে থাকা এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিজিটাল লেনদেনের স্ক্রিনশট দিয়ে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন খরচ ট্র্যাক করতে পারে। এছাড়া ফোনের ক্যামেরার মাধ্যমে জিমের যন্ত্রপাতি কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, তা রিয়াল টাইমে নির্দেশ দিতে সক্ষম।
অনরের এআই পণ্য পরিচালক শিয়াংডং লি বলেন, ‘অ্যাপলের মতো অসাধারণ একটি কোম্পানি থেকে আমাদের স্মার্টফোন শিল্প অনেক কিছু শিখতে পারে। এমনকি টেক জায়ান্টটিকে অতিক্রম করার চেষ্টাও করতে পারে। অ্যাপল ধীরে এগোলে আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে।’
লিয়ের দাবি, অনরের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোন ম্যাজিক ভিফাইভের ৩৭ শতাংশ অনলাইন ক্রেতা এসব টুল (আইফোন থেকে ডাটা, অ্যাপ ও ফাইল অনরে সহজে স্থানান্তর করা) ব্যবহার করে অ্যাপল ডিভাইস থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা উচ্চমূল্যের অ্যাপল ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে কার্যকরভাবে সফল হয়েছি।’






















