অবৈধ ও চোরাই ফোনের দাপট বন্ধে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়ন না হলে দেশের রফতানিমুখী মোবাইল ফোন উৎপাদন খাতের ‘অপমৃত্যু’ ঘটবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উৎপাদকেরা। একই সঙ্গে তারা সাধারণ ভোক্তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে বাজারে ফোনের দাম বাড়বে না, বরং দেশীয় উৎপাদন বাড়লে দাম আরও কমবে।
আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (এমআইওবি) এসব কথা জানায়। সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ফোন ডিস্ট্রিবিউটররাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল এনইআইআর নিয়ে বাজারে মিথ্যা তথ্য ও ‘অপপ্রচার’ ছড়াচ্ছে। তারা দাবি করেন, এনইআইআর চালু হলে ফোনের দাম বাড়বে—এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, “স্থানীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় কর কাঠামো উৎপাদন ও আমদানিতে কখনোই এক হয় না। এনইআইআর মূলত ভোক্তা সুরক্ষা ও চোরাই মোবাইলের মাধ্যমে অপরাধ কমানোর জন্য জরুরি। এর ফলে কোনো প্রবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।”
শাওমি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়া উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আজ যারা কর ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করছে, তারাই উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলছে। অথচ আমরা বাংলাদেশকে আগামীর সম্ভাবনাময় মোবাইল রফতানি খাত হিসেবে গড়ে তুলছি। এখন অবৈধ ফোনের পক্ষে যা হচ্ছে, তাতে এ শিল্পের মৃত্যু ঘটবে।”
স্বাগত বক্তব্যে এমআইওবি কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, “ব্যবসায়ীরা এখন মিস ও ডিস-ইনফরমেশনের কবলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো তথ্য যাচাই করা দরকার। আবেগ পুঁজি করে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবি জানায়, গ্রে বা অবৈধ আমদানি বন্ধ হলে গ্রাহকরা অফিসিয়াল পিআই মূল্যের চেয়েও কম দামে প্রিমিয়াম মডেল কিনতে পারবেন। বর্তমানে যারা অবৈধ ফোনের দাবিতে আন্দোলন করছেন, তাদের জন্য একটি বিশেষ প্রস্তাব দেন উৎপাদকেরা। তারা বলেন, “আন্দোলনকারীরা চাইলে অবৈধ পথ ছেড়ে আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাদের ১০ শতাংশ কমিশনে ব্যবসার সুরক্ষা দেওয়া হবে।”
ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি রাহুল কাপুরিয়া বলেন, “বিপণন ব্যবস্থায় দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী কাজ করে। এসআর থেকে সেলসম্যান—দেশের ৯৫ শতাংশই বৈধ ফোনের ব্যবসা করছেন। অথচ মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করে তাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।”
এমআইওবি জানায়, দেশে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার মোবাইলের দোকান আছে, যার ৯০ শতাংশই তাদের সঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা করছে। সিন্ডিকেটের ডাকা আন্দোলনে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্ক ছাড়া সারা দেশের সব মোবাইলের দোকান খোলা আছে এবং ব্যবসা স্বাভাবিক রয়েছে।
ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ
এক প্রশ্নের জবাবে এমআইওবি সাধারণ সম্পাদক জানান, সরকার ২০১৯ সালের কাঠামো অনুযায়ী ৫৭ শতাংশ ভ্যাট কমানোর বিষয়ে কাজ করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ফোনের দাম আরও কমবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ভিভো বাংলাদেশের প্রতিনিধি ইমাম উদ্দীন, স্যামসাং ফোন উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এক্সেল টেলিকমের সেলস হেড মো. সাইফুদ্দিন টিপু প্রমুখ।






















