দেশে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করে বৈধ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রকৃত ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি নয়। অথচ একটি মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে দেশে ২৫ হাজার মোবাইল ব্যবসায়ী রয়েছেন বলে ভিত্তিহীন দাবি করছে।
আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। তারা জানান, গত এক বছরে অন্তত একটি ফোন বিক্রি করেছেন—এমন ব্যবসায়ীর সংখ্যা গণনা করলে তা কোনোভাবেই ১২ হাজারের বেশি হবে না। এর মধ্যে সিংহভাগই বৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের মোবাইল বাজারের বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, বাংলাদেশের মোবাইল বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশই অবৈধ পথে আসা ফোনের দখলে। চোরাই ও অবৈধ পথে আসা এসব ফোনের কারণে বৈধ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। অসম প্রতিযোগিতার কারণে স্থানীয় উৎপাদন খাত এবং এর সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার কর্মসংস্থান এখন হুমকির মুখে।
অবৈধ হ্যান্ডসেটের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে বক্তারা বলেন, অনিবন্ধিত ও নিরাপত্তাহীন ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সাইবার নিরাপত্তা, ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য এবং জাতীয় আর্থিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এছাড়া এই বিশাল অবৈধ বাজারের কারণে সরকার প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হিসেবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, এনইআইআর কার্যকর হলে অবৈধ ফোনের দৌরাত্ম্য কমবে, সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। ২৫ হাজার ব্যবসায়ীর দোহাই দিয়ে যারা এনইআইআর আটকাতে চাইছে, তারা মূলত অবৈধ সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষা করছে।






















