আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়নকে সামনে রেখে দেশের মোবাইল বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে ক্লোন (নকল), ইউজড (ব্যবহৃত) ও রিফারবিশড (পুরোনো ফোন মেরামত করা) হ্যান্ডসেট যাতে কোনোভাবেই দেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
বিটিআরসি ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আনঅফিসিয়াল বা গ্রে মার্কেটের ‘আসল’ ফোনগুলো শুল্ক দিয়ে বৈধ করার সুযোগ থাকলেও ক্লোন বা রিফারবিশড ফোনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এগুলো সরাসরি জব্দ ও ধ্বংস করা হবে।
বিমানবন্দরে কাস্টমসের ‘রেড অ্যালার্ট’ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দারা বিশেষ স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।
বিটিআরসির কঠোর বার্তা মঙ্গলবার মোবাইল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বিটিআরসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হলেও ক্লোন বা রিফারবিশড ফোনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কোনো আপস করা হবে না।
আমদানিকারকদের এখন থেকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আমদানিকৃত ফোনটি মূল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা তাদের অনুমোদিত সরবরাহকারীর কাছ থেকে কেনা। বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, “দেশের মানুষকে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-ওয়েস্টের ডাম্পিং গ্রাউন্ড হতে দেওয়া হবে না। ক্লোন ফোন দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।”
বাজারে টাস্কফোর্সের অভিযান রাজধানীর মোতালেব প্লাজা, গুলিস্তান এবং চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের মতো মার্কেটগুলোতে বিটিআরসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স অভিযান শুরু করেছে।
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া বৈধ মোবাইল আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, রিফারবিশড ফোনের কারণে গ্রাহকরা আসল ফোনের স্বাদ পাচ্ছেন না এবং কোম্পানিগুলো বদনামের শিকার হচ্ছে। তবে সাধারণ ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, আসল আনঅফিসিয়াল ফোন ও ক্লোন ফোনের পার্থক্য যেন অভিযানের সময় সঠিকভাবে যাচাই করা হয়।






















