মোবাইল ফোন আমদানিতে ৫৭ শতাংশ উচ্চ কর বা ট্যাক্স কমানোর দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজপথ উত্তাল রেখেছিল মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতি। কিন্তু আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটার পর বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাধারণ ব্যবসায়ীদের মুখে ‘ট্যাক্স কমানোর’ স্লোগান তুলে দেওয়া হলেও সিন্ডিকেট নেতাদের মূল টার্গেট ছিল ভিন্ন। মূলত ক্লোন (নকল), কপি এবং রিফারবিশড (পুরোনো ফোন মেরামত করা) ফোনের বিশাল অবৈধ মজুত বৈধ করার অনুমোদন পাওয়াই ছিল তাদের আসল উদ্দেশ্য।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৫৭ শতাংশ ট্যাক্স কমানোর দাবিটি ছিল মূলত একটি ‘আইওয়াশ’ বা ধুম্রজাল। এই দাবি সামনে রেখে সাধারণ ব্যবসায়ীদের রাস্তায় নামানো হয়েছিল, যাতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অবৈধ ফোনের অনুমোদন আদায় করা যায়।
এনইআইআর (NEIR) বাস্তবায়নের ঘোষণা আসার পর থেকেই গ্রে মার্কেটের বড় আমদানিকারকরা বা সিন্ডিকেট হোতারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারণ তাদের গুদামে হাজার কোটি টাকার ক্লোন ও রিফারবিশড ফোন মজুত ছিল, যা বিটিআরসির সিস্টেমে নিবন্ধন হওয়ার সুযোগ নেই।
কৌশল: সরাসরি ‘ক্লোন ফোন বৈধ চাই’—এমন দাবি করলে জনসমর্থন মিলবে না জেনে নেতারা কৌশলে ‘৫৭% ট্যাক্স’ ইস্যু সামনে আনেন। কারণ ট্যাক্স কমানোর দাবিটি ক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে জনপ্রিয়।
বিশ্বাসঘাতকতা: সরকারের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নেতারা ট্যাক্স কমানোর বিষয়ে কঠোর না হয়ে ‘ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট’ সহজ করা এবং ‘স্টক ক্লিয়ারেন্স’-এর সময়সীমা বাড়ানোর দিকেই বেশি জোর দেন। ফলে ট্যাক্স কমেনি, কিন্তু নেতারা তাদের কিছু অবৈধ পণ্য বৈধ করার সুযোগ ঠিকই বের করে নিয়েছেন।
মোতালেব প্লাজার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল ট্যাক্স না কমলে ঘরে ফিরব না। অথচ নেতারা এখন বলছেন, ‘আমদানি সহজ হয়েছে, এটাই জয়’। আসলে তারা তাদের গুদামে থাকা দুই নম্বর মাল (ক্লোন/রিফারবিশড) বের করার ধান্দায় ছিল। আমরা শুধু দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হলাম।”
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, পৃথিবীর কোনো দেশেই ক্লোন বা নকল ফোনের বৈধতা দেওয়া হয় না। নেতারা জানতেন সরকার এটা মানবে না, তাই তারা ট্যাক্স ইস্যু দিয়ে মাঠ গরম করেছেন। শেষ পর্যন্ত তারা আমদানির শর্ত শিথিল করিয়ে নিয়েছেন, যা কেবল বড় আমদানিকারকদেরই সুবিধা দেবে। কিন্তু ৫৭% ট্যাক্সের বোঝা সাধারণ ক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাঁধেই রয়ে গেল।
সরকার ক্লোন ও রিফারবিশড ফোনের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখালেও, আন্দোলনের চাপে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে স্টকের তালিকা জমার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তার ফাঁকফোকর গলে অনেক অবৈধ ফোন বৈধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।






















