মোবাইল ফোন চোরাচালান রোধ, কর ফাঁকি বন্ধ এবং ক্লোন হ্যান্ডসেটের বিস্তার ঠেকাতে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (এনইআইআর) চালু করতে যাচ্ছে সরকার। তবে ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে বিদ্যমান অনিবন্ধিত ফোন নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বছরের (২০২৬) ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনিবন্ধিত ফোনগুলো নেটওয়ার্কে সচল থাকবে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, মূলত ভোক্তা সুরক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই প্রযুক্তি চালু করা হচ্ছে।
গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিটিআরসি। সংস্থাটি জানায়, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের আগে যেসব ফোন দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে একবারের জন্য হলেও সচল ছিল বা আছে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআর ডেটাবেসে নিবন্ধিত হয়ে যাবে।
সিম দিয়ে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সময় এনইআইআর স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্যান্ডসেটের ১৫ অংকের আইএমইআই (IMEI) যাচাই করবে। এতে ক্লোনিং বা এক আইএমইআই একাধিক ফোনে ব্যবহারের জালিয়াতি বন্ধ হবে।
দেশে ব্যবহৃত হ্যান্ডসেটের বড় একটি অংশই অবৈধ বা ‘গ্রে মার্কেট’ থেকে আসা। মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি)-এর তথ্যমতে, বর্তমানে বাজারে থাকা ফোনের প্রায় ৬০ শতাংশই অনিবন্ধিত। দাম কম হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের কাছে এসব ফোনের চাহিদা বেশি।
এনইআইআর চালুর ঘোষণায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের সংগঠন ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ (এমবিসিবি) দাবি করেছিল, উচ্চ আমদানি করের কারণে বৈধ ফোনের দাম বেশি। আর গ্রে মার্কেটের অবিক্রিত ফোন নিয়ে তারা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সরকার মুঠোফোন আমদানিতে বিদ্যমান ৬১ শতাংশ কর কমানোর পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
নীলিমা হোসেন নামে এক অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারী বলেন, “ভেবেছিলাম এনইআইআর চালুর পর আমার ফোন বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হওয়ার খবরে স্বস্তি পেলাম। আশা করি, এখন চুরি হওয়া ফোন উদ্ধারে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।”
আইফোন ব্যবহারকারী আহমেদ ইফতেখার বলেন, “এই প্রযুক্তির ফলে ফোনের মাধ্যমে হওয়া জালিয়াতি শনাক্ত করা সহজ হবে। তবে সরকারের কাছে কর ও ভ্যাট কমানোর দাবি জানাই, যাতে ক্রেতারা উপকৃত হন।”
এনইআইআর চালুর ফলে চুরি ও নকল ফোনের দৌরাত্ম্য কমবে এবং ডিভাইস হারালে তা উদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়বে। বৈধ পথে কেনাকাটা উৎসাহিত হবে, ফলে ক্রেতারা বিক্রয়োত্তর সেবা বা ওয়ারেন্টির নিশ্চয়তা পাবেন। তবে চ্যালেঞ্জ হলো, কর না কমালে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ফোনের দাম নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।






















