চীনে এনভিডিয়ার উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ এইচ২০০ রফতানির অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর চীনের ক্রেতাদের কাছ থেকে এইচ২০০ চিপের পাওয়া ক্রয়াদেশ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চিপ জায়ান্ট এনভিডিয়া। খবর রয়টার্স।
কোম্পানিটি বলছে, চীনা অর্ডারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান উৎপাদনক্ষমতা সামাল দেয়া যাচ্ছে না। তাই কোম্পানিটি এখন উৎপাদন বাড়ানোর কথা ভাবছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান চিপ রফতানিসংক্রান্ত বিতর্কের সাময়িক সমাধান হিসেবে সম্প্রতি চীনে এইচ২০০ চিপ রফতানির অনুমতি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে একই সঙ্গে জানানো হয়, এক্ষেত্রে প্রতি চালানে আরোপ করা হবে ২৫ শতাংশ ফি।
এনভিডিয়া-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চীনা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে চিপটির চাহিদা এতটাই শক্তিশালী যে নতুন করে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে এনভিডিয়া। চীনের শীর্ষস্থানীয় একাধিক কোম্পানি চলতি সপ্তাহেই এইচ২০০ কেনার বিষয়ে কোম্পানিটির সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এর মধ্যে আলিবাবা ও বাইটড্যান্সও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বড় পরিমাণে অর্ডার দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তবে চীনা সরকার এখনো বিশেষ এ চিপ কেনার ছাড়পত্র দেয়নি। জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গত সপ্তাহে জরুরি বৈঠকে বসেন চীনা কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে এইচ২০০ চিপের উৎপাদন খুবই সীমিত। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এআই চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া এখন সবচেয়ে উন্নত ব্ল্যাকওয়েল ও আসন্ন রুবিন সিরিজের চিপেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের একজন জানান, এনভিডিয়ার পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে গ্রাহকদের বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
এইচ২০০ চিপটি গত বছর থেকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে এবং এটি এনভিডিয়ার আগের ‘হপার’ প্রজন্মের সবচেয়ে দ্রুতগতির এআই চিপ। চার ন্যানোমিটার উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি তৈরি করছে তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি টিএসএমসি ও চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (এমআইআইটি)।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে এইচ২০০ চিপের ব্যাপক চাহিদার মূল কারণ হলো বর্তমানে দেশটির নাগালে থাকা চিপগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী। এইচ২০ থেকে এইচ২০০ চিপের সক্ষমতা প্রায় ছয় গুণ। এইচ২০ হলো কম ক্ষমতাসম্পন্ন একটি চিপ, যা ২০২৩ সালের শেষ দিকে চীনের বাজারের জন্য বিশেষভাবে উন্মোচন করা হয়।






















