রাজধানীর পরিচিত মোবাইল ফোন বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল গেজেট’ (Apple Gadget)-এর বিরুদ্ধে নতুন এবং অফিসিয়াল ফোনের কথা বলে গ্রাহককে রিফারবিশড বা ব্যবহৃত আইফোন গছিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক আইফোন ১৩ (iPhone 13) কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
গ্রাহকের অভিযোগ, কেনার সময় ফোনটি ‘ইনট্যাক্ট’ ও ‘অফিসিয়াল’ বলে নিশ্চিত করা হলেও ব্যবহারের কিছুদিন যেতে না যেতেই তাতে নানা ত্রুটি ধরা পড়ে। সিরিয়াল নম্বর যাচাই করে তিনি নিশ্চিত হন যে, তাকে নতুন মোড়কে পুরনো ফোন দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক জানান, তিনি বিশ্বস্ত মনে করে ‘অ্যাপল গেজেট’ থেকে একটি আইফোন ১৩ কেনেন। বিক্রয়কর্মীরা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে ডিভাইসটি সম্পূর্ণ নতুন। কিন্তু ব্যবহারের কয়েকদিনের মধ্যেই ফোনটি গরম হয়ে যাওয়া এবং ব্যাটারি ব্যাকআপে সমস্যা দেখা দেয়। সন্দেহ হওয়ায় তিনি অ্যাপলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সিরিয়াল নম্বর এবং সেটিংস যাচাই করেন। এতে দেখা যায়, ফোনটি আগেই অ্যাক্টিভেট করা ছিল এবং এটি একটি রিফারবিশড (Refurbished) বা ব্যবহৃত ইউনিট।
https://www.facebook.com/share/r/1CBppCDmNg/
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী তাৎক্ষণিকভাবে ‘অ্যাপল গেজেট’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু সমাধান দেওয়া তো দূরের কথা, দোকান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে। ভুক্তভোগী বলেন, “প্রমাণ দেখানোর পরও তারা দায় স্বীকার করেনি। উল্টো বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে এবং আমার সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেছে। অথচ আমি নতুন ফোনের পুরো দাম দিয়েই এটি কিনেছিলাম।”
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে রাজধানীর মোবাইল মার্কেটগুলোতে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী নতুন আইফোনের নামে ‘রিফারবিশড’ বা ‘নন-অফিসিয়াল’ ফোন বিক্রি করছে। চকচকে নতুন প্যাকেজিং বা ‘রি-প্যাক’ (Re-pack) করার কারণে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে আসল-নকল চেনা কঠিন হয়ে পড়ছে। যারা যাচাই-বাছাই না করে কিনছেন, তারাই বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন।
ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে ক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেন: ১. ফোন কেনার আগে অবশ্যই আইএমইআই (IMEI) নম্বর যাচাই করে অ্যাক্টিভেশন ডেট দেখে নিতে হবে। ২. ‘থ্রিইউ টুলস’ (3uTools) বা অ্যাপলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ফোনের পার্টস আসল কি না তা চেক করতে হবে। ৩. প্রতারিত হলে দ্রুত রসিদ ও প্রমাণসহ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করতে হবে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক জানিয়েছেন, প্রতিকার পেতে তিনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।






















