দেশে স্মার্টফোনের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে মোবাইল ফোন উৎপাদন এবং আমদানি—উভয় ক্ষেত্রেই কর ছাড় দিতে রাজি আছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (এনইআইআর) কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এ কথা জানিয়েছেন।
গতকাল সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ (র্যাপিড) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, উচ্চ শুল্ক হারের কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং গ্রে মার্কেট বড় হচ্ছে। তাই শুল্ক কমিয়ে বৈধ পথে আমদানি উৎসাহিত করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।
এনবিআর চেয়ারম্যান স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশে মোবাইল আমদানিতে শুল্কের হার অত্যধিক। তিনি বলেন, “পৃথিবীর কোনো দেশেই ট্রেড থেকে এত ট্যাক্স নেয় না—আমাদের এখানে যত পরিমাণ ট্যাক্স ইম্পোজ করা হয়। এটা যে শুধু রাজস্বের জন্য করা হয় তা কিন্তু না; মূলত আমাদের লোকাল ইন্ডাস্ট্রিকে সুরক্ষা দিতেই এটা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এনবিআর থেকে যেটা বুঝি, তা হলো—উভয় গ্রুপের (আমদানিকারক ও উৎপাদক) স্বার্থ রক্ষা করে এবং ভোক্তার স্বার্থ (Consumer Interest) নিশ্চিত করতে আমরা চাই বাংলাদেশে স্মার্টফোনের দাম কমুক। এবং এটা করতে গেলে আমরা দুই জায়গাতেই ছাড় দিতে রাজি আছি।”
শুল্ক কমানোর খবরে দেশীয় মোবাইল উৎপাদকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে আবদুর রহমান খান বলেন, “আজ সকালেই আমাদের মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারাররা দলবেঁধে এসেছিলেন। তাদের প্রশ্ন, আমরা যদি আমদানিতে ট্যাক্স কমাই, তবে তাদের বিনিয়োগের কী হবে? যেহেতু এনইআইআর চালু হচ্ছে, তাই সরকার চিন্তাভাবনা করছে কীভাবে দুটোর মধ্যে সমন্বয় বা অ্যাডজাস্ট করা যায়।”
এনবিআর চেয়ারম্যানের মতে, শুল্ক কমালে সরকারের রাজস্ব কমবে না বরং বাড়বে। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “বর্তমানে উচ্চ শুল্কের কারণে হাই-এন্ড (দামি) ফোনগুলোর বেশিরভাগই গ্রে মার্কেটে বা অবৈধ পথে আসে। ফলে আমরা সত্যিকার অর্থে কোনো রেভিনিউ পাই না। এনইআইআর বাস্তবায়নের মাধ্যমে যদি এটা আমরা ফরমাল চ্যানেলে আনতে পারি, তবে রেভিনিউ কিছুটা ছেড়ে দিলেও (শুল্ক কমালেও) ভলিউম বাড়ার কারণে সরকারের মোট রাজস্ব বাড়বে।”
বর্তমানে স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট মিলে মোট করের পরিমাণ প্রায় ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ও সংযোজনের ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কর রয়েছে। এনবিআরের নতুন পরিকল্পনায় এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।





















