প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গেছে মোবাইল ফোন। বর্তমানে দেশের ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারই মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। এর মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের হারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৪ শতাংশে। তবে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বাড়লেও কমেছে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ ২০২৫-২৬’-এর প্রথম ত্রৈমাসিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার বিবিএসের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় শতভাগ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে (৯৮.৯ শতাংশ)। বিদ্যুতের সহজলভ্যতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার।
-
মোবাইল ফোন: ৯৮.৯ শতাংশ পরিবার।
-
স্মার্টফোন: ৭২.৪ শতাংশ পরিবার।
-
ইন্টারনেট: ৫৬.২ শতাংশ পরিবার।
-
টেলিভিশন: ৫৮.৯ শতাংশ পরিবার।
-
রেডিও: ১৫.১ শতাংশ পরিবার।
-
কম্পিউটার: ৯.১ শতাংশ পরিবার।
প্রতিবেদনে ব্যক্তি পর্যায়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরনেও পরিবর্তনের চিত্র দেখা গেছে। বর্তমানে নিজের মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন দেশের ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ। আর মালিকানা না থাকলেও মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন ৮০ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ।
গত বছরের শেষ প্রান্তিকে মোবাইল ফোন ব্যবহারের এই হার ছিল ৭৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে মোবাইল ব্যবহারকারী বেড়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। আগে ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতেন, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশে।
মুঠোফোন ও ইন্টারনেটের প্রসার বাড়লেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে। ব্যক্তি পর্যায়ে কম্পিউটার ব্যবহারের হার ১ শতাংশ কমেছে। আগে ১০ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করতেন, যা বর্তমানে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। স্মার্টফোনে কম্পিউটারের অনেক কাজ করা সম্ভব হওয়ায় এই হার কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবিএস জানিয়েছে, ‘ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে জেলাভিত্তিক আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই জরিপ পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে ২০১৩, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে এ ধরনের জরিপ পরিচালিত হলেও এবারের জরিপটি দ্বিতীয়বারের মতো বৃহৎ পরিসরে করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের আওতায় বছরজুড়ে চারটি কোয়ার্টারে মোট তিনটি জরিপ শেষে তিনটি মূল রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। এখান থেকে প্রাপ্ত ২২টি সূচকের তথ্য ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নকে (আইটিইউ) প্রদান করা হবে। এছাড়া এসডিজি ট্র্যাকার, নীতি-নির্ধারণ এবং গবেষণার কাজে এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে বিবিএস।





















