ডিজিটাল নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধও এখন ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে বিশ্বব্যাপী ১ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি সাইবার নিরাপত্তা বিঘ্নের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার মধ্যে রয়েছে হ্যাকিং বা অননুমোদিত প্রবেশ, ম্যালওয়্যার ও র্যানসমওয়্যার আক্রমণ, ডাটা চুরি বা ফাঁস। সাইবার নিরাপত্তা পরিষেবা অরেঞ্জ সাইবারডিফেন্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ৪ হাজার ৭০১টি র্যানসমওয়্যার হামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। এসব হামলায় প্রায় ৫৪ শতাংশ লক্ষ্যবস্তু ছিল গুরুত্বপূর্ণ খাত, যেমন স্বাস্থ্যসেবা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হুমকির পরিধিও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালে সাইবার অপরাধের ফলে বিশ্বব্যাপী ক্ষতির পরিমাণ ১০ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে, যা মূলত ডাটা ফাঁস, অনলাইন কার্যক্রমে বিঘ্ন ও প্রতারণার
কারণে ঘটবে। একই সময়ে নতুন ধরনের সাইবার ঝুঁকিও দেখা দিচ্ছে। যেমন এআই চালিত ম্যালওয়্যার, পরিচয় চুরি ও সাপ্লাই চেইন হামলা।
সাইবারসিকিউরিটি কোম্পানি চেকপয়েন্টের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে র্যানসমওয়্যার হামলা বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। সাইবার হামলার মধ্যে র্যানসমওয়্যারের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কারণ এ হামলায় কম্পিউটার ভাইরাস ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর ফাইল বা সিস্টেম আটকে ফেলা হয় এবং তা মুক্ত করতে হামলাকারীরা অর্থ দাবি করে।
সংস্থাটি বলছে, নতুন প্রযুক্তি, লক্ষ্যবস্তুর পরিবর্তন এবং জেনারেটিভ এআই-ভিত্তিক হুমকির দ্রুত বৃদ্ধি সাইবার নিরাপত্তার জগৎকে আরো জটিল ও গতিশীল করে তুলেছে। এছাড়া সেপ্টেম্বরে র্যানসমওয়্যার হামলায় হঠাৎ উল্লম্ফন দেখা গেছে। বিশ্বজুড়ে এমন ৫৬২টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। এ আক্রমণের সবচেয়ে বড় শিকার ছিল উত্তর আমেরিকা।
গবেষণায় দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় দুই হাজার সাইবার হামলার মুখোমুখি হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৪ শতাংশ কম। এ হামলায় সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু ছিল শিক্ষা খাত। তবে ওই মাসে সাইবার হামলার সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কম। তবে এখনো অন্য সব খাতের তুলনায় অনেক বেশি। দ্বিতীয় স্থানে আছে টেলিকম খাত ও তৃতীয় স্থানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, সাইবার হামলায় এখন নতুন উদ্বেগের নাম ডিপফেক বা ভুয়া ভিডিও। গত কয়েক বছরে এআইয়ের উত্থানে এসব আক্রমণ কয়েক গুণ হয়েছে। সাইবার প্রতারকরা এখন অতিরিক্ত বাস্তবসম্মত ভুয়া ভিডিও, অডিও ক্লিপ ও ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করছে। এ প্রযুক্তি অর্থ চুরি, রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি এবং প্রতিষ্ঠানে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য ব্যবহার হচ্ছে।
তাই তারা বলছে, ২০২৬ সালের পর সাইবার সিকিউরিটি শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় থাকবে না। এটি কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অপরিহার্য হয়ে উঠবে। তাই সব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা এখনই শক্তিশালী করা অত্যাবশ্যক।





















